মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের নিকটবর্তী একটি ছোট শহরে ৮০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে বলে পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) ও স্থানীয় একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার রাতে বাগো শহরের এ নিহতের সংখ্যা প্রথমে বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি কারণ নিরাপত্তা বাহিনী মৃতদেহগুলো জেইয়ার মুনি প্যাগোডা প্রাঙ্গণে নিয়ে জড়ো করে সেই এলাকাটি ঘেরাও করে রেখেছিল। এএপিপি ও মিয়ানমার নাউ গণমাধ্যম শনিবার জানিয়েছে, এখানে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে ৮২ জন নিহত হয়েছেন।
পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) বলছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। সংবাদ সংস্থা দ্য মিয়ানমার নাউ বিক্ষোভের আয়োজক ইয়ে হুটুটকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘এটা গণহত্যার মতোই। তারা প্রতিটি ছায়ার দিকে গুলি ছুড়েছে।’
ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সেনাবাহিনী বছরব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছে। তখন থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা বিভিন্ন ভাষ্য থেকে জানা গেছে, স্থানীয় অনেক বাসিন্দাই পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে শনিবার মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
এএপিপি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ও গ্রেপ্তার প্রতিবাদকারীদের দৈনিক হিসাব রাখছে। ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৬১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে এর আগে জানিয়েছিল তারা। তবে এ সংখ্যাটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করা সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, অং সান সু চির দল গত বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কারচুপি করে জয় পেয়েছিল। তবে তাদের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল দেশটির নির্বাচন কমিশন।
এক সংবাদ সম্মেলনে জান্তা মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন বলেছেন, সামরিক বাহিনী ২৪৮ জন বেসামরিক ও ১৬ জন পুলিশের মৃত্যু রেকর্ড করেছে আর নিরাপত্তা বাহিনী এ পর্যন্ত কোনো স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি।
সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হ্রাস পাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, লোকজন শান্তি চায় বলেই এমনটি হচ্ছে। সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।