হেফাজতে ইসলামের ডাকে ২৮ মার্চের হরতালে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও কাঁচপুর এলাকার সহিংসতার ঘটনায় ছবি ও ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে গত শনিবার রাতে স্থানীয় হেফাজত নেতা ও মতূর্জাবাদ জামে মসজিদের খতিব লোকমান হোসেন আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর রবিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় গোলাকান্দাইল বাস স্টেশন এলাকা থেকে।
পুলিশের ভাষ্য, ওই এলাকায় সহিংসতার ঘটনার দুই শতাধিক ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেইসবুকে যারা ‘উসকানিমূলক’ পোস্ট দিয়েছেন তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, শনিবার রূপগঞ্জ উপজেলা সদরের একটি মসজিদ থেকে মুফতি লোকমান হোসাইন আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হেফাজত নেতা মামুনুল হককে আটক করার গুজব ছড়িয়ে ‘লোক সমাগম’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ভিডিও, ছবি ও ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে দেখে চিহ্নিত ও আটক করা হচ্ছে। অপরাধীরা কেউ ছাড় পাবে না।
রূপগঞ্জ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মতূর্জাবাদ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লোকমান হোসেন আমিনীকে শনিবার রাত ১১টার দিকে মসজিদসংলগ্ন খতিবের আবাসিক কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোলাকান্দাইল বাস স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনকে। হেফাজতের হরতালে সহিংসতার মামলায় আসামি তিনি।
ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নাজিম উদ্দিন জানান, গত ২৬ মার্চ ভুলতা এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়। দেলোয়ার হোসেন ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হরতালের দিন এবং সোনারগাঁয়ের একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে হেফাজত নেতা কথিত স্ত্রীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া তান্ডবের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।