হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না উল্লেখ করে ছেলে জিডি করার পর তার খোঁজে মাঠে নেমেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে ঝর্ণার বড় ছেলে আবদুর রহমান রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে থানাটির এসআই মঞ্জুরুল আহসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মো. শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি তার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপিকে খুঁজে পাচ্ছেন না জানিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডিতে বোনকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের স্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ঝর্ণার ছেলের জিডির ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে নারীর তরুণ ছেলে জিডি করেছেন, ওই নারীই সেদিন সোনারগাঁয়ে মামুনুলের সঙ্গে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
পল্টন থানায় করা ডিজিতে আবদুর রহমান উল্লেখ করেন, তার মায়ের ঘর থেকে তিনটি ডায়েরি পাওয়া গেছে। এছাড়া তাকে অনুসরণ করা হচ্ছিল জানিয়ে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলেও জানান তিনি।
মামুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে আবদুর রহমান জানান, গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর ধানম-ির নর্থ সার্কুলার রোডের বাসা থেকে বের হন তার মা জান্নাত আরা ঝর্ণা। এরপর থেকে মায়ের খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি।
মায়ের কক্ষে তিনটি ডায়েরি পাওয়ার কথা জানিয়ে আবদুর রহমান জিডিতে বলেন, ডায়েরিগুলো নিয়ে বের হওয়ার পর কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছে বলে তিনি বুঝতে পারেন। এতে করে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত তিনি।
ছেলের জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঝর্ণার ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক। তিনি আরও জানান, থানার এসআই মঞ্জুরুল আহসানকে এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ওসি আবু বকর সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডায়েরিগুলো রেখে আবদুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’
আরেক ‘স্ত্রী’র সন্ধান চেয়ে জিডি : মো. শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি তার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপিকে খুঁজে পাচ্ছেন না জানিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডিতে বোনকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের স্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
জান্নাতুলের ভাই পরিচয় দেওয়া মো. শাহজাহান জিডিতে বলেছেন, মামুনুল হক তার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপিকে বিয়ে করেছেন বলে তাকে ডেকে বিয়ের চুক্তিনামা দেখিয়েছেন। তবে তার বোনের কোনো সন্ধান তারা পাচ্ছেন না। বোনকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের জন্য জিডিতে তিনি আইনি সহায়তা চেয়েছেন।
মো. শাহজাহানের করা জিডির তথ্য অনুযায়ী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপির বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ার বানারহাওলা গ্রামে। শাহজাহান বলেছেন, গত বুধবার তার বড় বোন জান্নাতুলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এ সময় বোন জানিয়েছিলেন তিনি মোহাম্মদপুরে দিলরুবা নামে এক আপার বাসায় আছেন। এর মধ্যে গত শনিবার মামুনুল হক তাকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে জানান তার বোন জান্নাতুলকে তিনি বিয়ে করেছেন। মামুনুল চুক্তিনামা দেখান। তবে তিনি বোনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি। তার বোন বর্তমানে কোথায় তা জানা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বোনকে নিরাপত্তা দেওয়া ও অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের জন্য আইনি সহায়তা চান শাহজাহান।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেছেন, শাহজাহান জিডিতে যে তথ্য দিয়েছেন তা তারা খতিয়ে দেখছেন।