‘মা-মেয়ের চক্রান্তে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূ

ফরিদপুরের মধুখালীতে মা-মেয়ের চক্রান্তে এক সন্তানের জননী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, মধুখালী পৌর এলাকার আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাস করেন অভিযুক্ত মা ও মেয়ে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ (১৮) মেয়ের বান্ধবী। ওই মেয়ের বিয়ে হয়েছে উপজেলার মাকড়াইল গ্রামে। তার তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে। রবিবার অভিযুক্ত তরুণী ও তার মাসহ কয়েকজন মেয়েটির বাড়ি যায়। বাড়ি গিয়ে গল্প-গুজব করে তারা ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত তরুণী আবার ভিকটিম গৃহবধূর বাড়ি গিয়ে বলে, ‘তোদের বাড়িতে মোবাইল ফেলে গেছি, মোবাইলটি দে’। ওই গৃহবধূ বলেন, ‘মোবাইল এখানে রেখে যাসনি’। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এরপর অভিযুক্ত মা ও মেয়ে কয়েকজন লোক নিয়ে ওই মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে। এর দুদিন পর মঙ্গলবার সকালে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় তাদের বাড়িতে ফেলে রেখে আসা হয়।

ভূক্তভোগী গৃহবধূ এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান ফিরে পেলে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে।

ভাঙা গলায় তিনি জানান, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে আমার বান্ধবী ও তার মা সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। রবিবার বিকালে আমাকে তুলে নিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর এলাকার একটি বাড়িতে রাখে। রাতে খাবারের সঙ্গে আমাকে কিছু খাওয়ানো হয়। আমি কিছুটা অচেতন হয়ে পড়ি। এরই মধ্যে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এক ব্যাক্তি। সে আমাকে ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে আমি বান্ধবীকে বিষয়টি বললেও আমার উপর তেড়ে আসে।

গৃহবধূ আরো জানান, পরদিন সোমবার সেখান থেকে আমাকে নিয়ে আসা হয় মধুখালী চিনিকল মসজিদ সংলগ্ন একটি বাড়িতে। রাতে সেখানেও আমাকে কিছু খাওয়ানো হয়। এরপর আমি কিছুটা অচেতন হয়ে পড়ি। সেখানেও দুই ব্যক্তি আমাকে ধর্ষণ করে। আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়ি। আমাকে ওরা স্যালাইন খাওয়ায়। এরপর আমার অবস্থা খারাপ হতে দেখে মঙ্গলবার সকালে আমাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে আসে।

তিনি জানান, যারা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে তাদের নাম আমি জানি না। তবে দেখলে চিনতে পারব। যে বাড়িতে রাখা হয়েছিল সেটাও আমি চিনব। একজন লোক একটু বয়স্ক, মুখে দাড়ি আছে। আমার সঙ্গে যে অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাই।

তার বাবা জানান, কয়েকদিন আগে মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে আমার বাড়ি নিয়ে আসি। এরপরই এরকম ঘটনা ঘটল। ওই মেয়ে আর তার মা এর আগেও অনেক মেয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছে। এরকম ঘটনা অনেক আছে। অনেকেই লজ্জায় মুখ খোলেনি।

তিনি আরো জানান, আমার মেয়ের জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। ওর একটি তিন বছরের সন্তান রয়েছে। স্বামী-শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছে মুখ দেখাবে কী করে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেব। মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে এসেছি।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনা পারভীনের এর তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মেয়েটির চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। শারিরিকভাবে দুর্বল রয়েছে, সুস্থ্য হতে সময় লাগবে।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমান ফিরোজ জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মেয়েটির চিকিৎসা করছেন। সন্ধ্যায় ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে ওসিসি সেন্টারে পাঠানো হতে পারে।

তিনি আরো জানান, পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই বিস্তারিত জানাতে পারব।

মধুখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রথিন্দ্র নাথ তরফদার বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত মা-মেয়েকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফরিদপুর হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে গিয়েছিলাম। অসুস্থ থাকায় মেয়েটি তেমন কথা বলতে পারেনি। সুস্থ হলে তার মুখ থেকে বিস্তারিত শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন পর্যন্ত অভিযোগ হাতে পাইনি। মেয়েটির বাবা জানিয়েছে সন্ধ্যার মধ্যে অভিযোগ দেবে।