সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে সম্মিলিত দোকান ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ। তবে এই সময়ে মার্কেট-শপিংমল, দোকান বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীদের পাঁচ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এই অবস্থায় বর্তমান সরকারকে ব্যবসাবান্ধব সরকার হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রণোদনা দাবি করেছেন পরিষদের নেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার সম্মিলিত দোকান ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক তৌফিক এহেসান বলেন, ‘লকডাউনে সবচেয়ে কষ্টকর পরিস্থিতিতে পড়ে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং সাধারণ দোকান ব্যবসায়ীরা। মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। এমতাবস্থায় যদি সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়া হয় তাহলে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে যাবেন।
দেশের ব্যবসায়ীদের সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তৌফিক এহেসান বলেন, দেশে প্রায় আড়াই কোটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল। যদি তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তাদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, এরা পথে বসে যাবেন। আইটি পণ্য, কৃষিপণ্য ও যন্ত্রাংশ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি গার্মেন্টস শিল্প, কুরিয়ার সেবা, অনলাইনে পণ্য সরবরাহ সেবা যাতে এ লকডাউনে খোলা থাকে সেদিক বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার তৌফিক এহেসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত দাবি করে তিনি বলেন, এই সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রণোদনা পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন এই নেতা।
যদি আপনাদের দাবি না মানা হয় তাহলে আপনাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে যাব না। কারণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সবসময় ব্যবসায়ীদের পাশে ছিলেন। যখনই দুর্যোগ এসেছে তখন কোনো না কোনোভাবে তিনি আমাদের সাহায্য করেছেন। আমরা এখনো আল্লাহকে হাজিরানা সাক্ষী রেখে বলতে পারি তিনি আমাদের পাশে থেকে একটা পথ বের করে দেবেন।’
সরকার ঘোষিত ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ মার্কেট শপিংমল দোকানপাট বন্ধ থাকলেও ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা খুলে দেওয়া হয়েছিল। খোলা দোকানপাটে ক্রেতা উপস্থিতি থাকলেও আশানুরূপ বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে আবার লকডাউনের ঘোষণায় অনেকটাই দিশেহারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ছোট ব্যবসায়ীরা। গত বছরের ঈদের সময় করোনার ছোবল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকটা পথে বসার উপক্রম হয়েছে তাদের। পুঁজি হারাতে হারাতে এখন পথে বসতে হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শাহবাগের আজিজ মার্কেটের দেশীয় পোশাকের প্রতিষ্ঠান নোঙ্গরের স্বত্বাধিকারী মৃণাল হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি আসলে ভয়াবহ খারাপ। গত এক বছরের যে ক্ষতি সেটা পুষিয়ে ওঠার জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাটাই ব্যর্থ মনে হচ্ছে।’
চাঁদনী চক মার্কেটের শামীমা ফেব্রিক্সের তৌহিদুল ইসলাম বলছিলেন, ‘বেচাকেনা কই? ক্রেতাই তো নাই। যখন বিক্রির সময় তখনই লকডাউন। আমাদের পথে বসার পালা।’
মহানগর দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোজার মাস উপলক্ষে আমরা যে বিনিয়োগ করছি এভাবে যদি লকডাউন চলতে থাকে তাহলে তা আমাদের ‘আত্মহত্যার’ শামিল হয়ে যাবে। আমরা পথে বসে যাব। গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের মতো যদি দোকানপাট খোলা না থাকে তাহলে অনেকেই আত্মহত্যা করতে পারে বলে মত দেন দোকান মালিক সমিতির এই নেতা। তিনি লকডাউনে দোকান খোলা রাখার জন্য অনুরোধ জানান।