বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার আজ থেকে যে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে তা পরিকল্পনাহীন। যারা দিন আনে দিন খায়, সরকার তাদের খাওয়ার কী ব্যবস্থা করছে? এই লোকগুলোকে তো ঘরে রাখা যাবে না।’ সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন’ শুরুর আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের কোনো সমন্বয় নেই, কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো রোডম্যাপ নেই। এই যে সাত দিন দিয়েছে, তার পরে কী হবে? এখানে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে দিন আনে দিন খায় মানুষজনে। এটা দায়িত্ব সরকারের যে, এই মানুষগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করা। যেটা সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে সম্পূর্ণভাবে।’
বিএনপি কি লকডাউনের বিরোধিতা করছেসাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমরা বিরোধিতা করছি না। এখন পর্যন্ত আমরা দেখছি যে সরকার একটা অকার্যকর শাটডাউন করছে। হাজার হাজার লোকজন বের হচ্ছে, হাজার হাজার লোক বাজারে যাচ্ছে। আবার শিল্পকলকারখানা খোলা রাখছে। দেখুন কতটা স্ববিরোধিতা।’
‘লকডাউন’ কীভাবে সফল করা যায়এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যাপারটা তো সহজ নয়, কঠিন নিঃসন্দেহে। আলাউদ্দিনের চেরাগ কারেও হাতে নেই যে মুহূর্তে ঠিক করে ফেলবেন। রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনজিওগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করলে এই ধরনের লকডাউন সফল করা যাবে।’
‘২৬ মার্চ হেফাজত ইসলামীকে নিয়ে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা পূর্ব পরিকল্পিত’এমন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঘটনা তৈরি করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এখন তারা এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে আরেকটা প্রক্রিয়া তারা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফরিদপুরের সালথায় ১৭ হাজার লোকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের গ্রামছাড়া করা হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এভাবে পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সেখানে কোনো দিন কোনো কর্র্তৃত্ববাদী সরকার, একনায়কতান্ত্রিক সরকার বা ফ্যাসিবাদী সরকার টিকে থাকতে পারেনি। এটা ইতিহাসে নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারকে বারবার ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কারণ এই সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
রোজার আগে চাল-সয়াবিন তেল-চিনি-আটা-ময়দাসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে যে ধরনের লাগামহীন দুর্নীতি চলছে, মূলত তারই ধারাবাহিকতায় লুটেরা সরকারের সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী চক্রের হাতে দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনাও জিম্মি হয়ে আছে। রমজানের এক-দুই মাস আগে পরিকল্পিতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কৌশলে ২০ শতাংশ বাড়িয়ে সপ্তাহখানেক পরে ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, আগে রমজানের সময় টিসিবি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করত, সাধারণ মানুষের ক্রয় সীমায় রাখার চেষ্টা করত। এবার ওই টিসিবি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার করোনা ধরা পড়েছে। এখন যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে, যেহেতু করোনা আক্রান্ত হয়েছে তাই তাকে মুক্ত করে দিন। যাতে উনি ওনার খোলা মনে চিকিৎসা নিতে পারেন। এখানে মানবিক হতে হবে।’ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এমন বক্তব্য টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই, সঠিক বক্তব্যের জন্য। তিনি বলেছেন এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ জামিন দেওয়া প্রয়োজন। আমরাও খালেদা জিয়াকে পূর্ণাঙ্গ জামিন দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব।’