মিয়ানমারে এদিকে যেমন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে জান্তা সরকার, তেমনি গণতন্ত্রকামীরাও ছাড়ছেন না মাঠ। যার কারণে সহিংস ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই, প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। দেশটিতে গত প্রায় আড়াই মাসে অন্তত ৭১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন সেনাবাহিনী বা পুলিশের গুলিতে। অন্যদিকে সম্মিলিত জাতিগোষ্ঠী দলের জোট সামরিক বাহিনী গত শনিবার একটি থানায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। ওইদিন থেকেই অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আর জাতিসংঘের শঙ্কা মিয়ানমারের চলমান এই সহিংসতার জেরে দেশটির অবস্থা সিরিয়ার চাইতেও খারাপ দিকে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গত শুক্রবার রাতে মিয়ানমারের বাগো শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো ক্র্যাকডাউনে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিহতদের লাশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিয়ে যাওয়ায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা কখনই জানা যাবে না। ওইদিন প্রত্যক্ষদর্শীরা দেশটির গণমাধ্যমকে বলেছেন, সৈন্যরা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছিল এবং নড়াচড়া করে এমন যেকোনো কিছুর ওপরই গুলি চালিয়েছে। এর পরদিনই সম্মিলিত জাতিগোষ্ঠী জোটের সামরিক বাহিনী ‘নাউনগমন’ নামক গ্রামের পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায়।
গত শুক্রবার উৎখাত হওয়া সংসদ সদস্যরা এবং জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তারা দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো এবং অস্ত্র অবরোধ বা আর্মস এমবার্গো ও নো-ফ্লাই জোন করার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এরপরই জাতিসংঘ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয় যে, তারা সেখানে জনগণের বিরুদ্ধে ভারী আর্টিলারির ব্যবহারের কথা শুনেছেন এবং জেনেছেন যে, তাদেরকে কোনো চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হয়নি।
জাতিসংঘ আরও সতর্ক করে বলে যে, মিয়ানমার ‘রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা রিচার্ড হোর্সে বলেছেন, সামরিক শাসনের ফলে দেশটিতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে দেশটি শাসনের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনের কর্তা মিশেল ব্যাচলে বলেছেন, মিয়ানমারের অবস্থা যেদিকে যাচ্ছে তাতে করে দেশটির অবস্থা সিরিয়ার মতো হতে পারে। তার মতে, সেনাবাহিনী যদি শিগগিরই ক্ষমতা না ছাড়ে তবে দেশটির বিদ্রোহী জাতিগোষ্ঠীগুলো নিজ নিজ এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। যার পরিণতি অনিবার্য সংঘাত, প্রাণহানি।
গত ১ ফেব্রুয়ারি শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকে অব্যাহত বিক্ষোভ চলছে।