দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্বামী শাহাজাদ হোসেনকে (৩৮) হত্যার অভিযোগে স্ত্রী শরিফা বেগমকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে পার্বতীপুর শহরের চান্দোয়াপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী শরিফা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর পার্বতীপুর শহরের চান্দোয়াপাড়া এলাকায় মৃত জহির উদ্দীনের ছেলে শাহাজাদ হোসেনের সঙ্গে একই উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ভোটগাছ গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে শরিফা বেগমের বিয়ে হয়।
শরিফার চতুর্থ ও শাহাজাদ হোসেনের তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। প্রতিদিনই উভয়ের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। মাত্র দু মাস আগে শাহাজাদ হোসেন টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় একটি অটোরাইস মিলে শ্রমিক পদে চাকরিতে যোগ দেন। বুধবার ভোরে শাহাজাদ হোসেন কর্মস্থল থেকে চান্দোয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে আসেন।
পার্বতীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান জানান, বুধবার বিকেলে স্ত্রী শরিফা বেগম সুজির হালুয়ার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খেতে দেন। এতে তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী শরিফা বেগম গলাটিপে তাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কই মূল কারণ বলে তিনি জানান।
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী শরিফা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।