বাজিকরের সঙ্গে যোগাযোগ, ৮ বছর নিষিদ্ধ হিথ স্ট্রিক

গত বুধবার ৫ অভিযোগে ক্রিকেট থেকে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক হিথ স্ট্রিক। এই সাবেক অলরাউন্ডার লম্বা সময় ছিলেন বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় একজন বাজিকরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে আইসিসি। নাম উল্লেখ না করে সেই বাজিকরকে ‘মিস্টার এক্স’ পরিচয় করিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু সেই বাজিকর যে দিপক আগারওয়াল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ‘মিস্টার এক্স’ এবং দিপক আগারওয়ালের সঙ্গে বাংলাদেশের কিন্তু পূর্বপরিচয়। ২০১৯ সালে সাকিব আল হাসানের ক্রিকেট থেকে এক বছরের নিষিদ্ধ হওয়ার সময় ‘মিস্টার এক্স’ এবং আগারওয়াল দুটোই ছিল। ধারণা করা হচ্ছে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার সময়ের ‘মিস্টার এক্স’ ছিলেন হিথ স্ট্রিক। তিনিই সাকিব আল হাসানের ফোন নম্বর আগারওয়ালকে বিনা অনুমতিতে দিয়েছিলেন। যার জন্য সাকিবকে ফাঁসতে হয়েছে।

সাকিবের নিষেধাজ্ঞার সময় আইসিসি বিবৃতি দিয়েছিল– আগারওয়ালকে সাকিবের পরিচিত কেউ (মিস্টার এক্স) তার ফোন নম্বর দিয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলিং কোচ ছিলেন স্ট্রিক। কাজের সূত্রেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া ছিল স্ট্রিকের। ২০১৬-তে বোলিং কোচের চাকরি ছাড়লেও বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেই সম্পর্ক রয়ে যায় স্ট্রিকের। ওই বছর ভারতের উত্তর প্রদেশ এবং আইপিএলে গুজরাট লায়নসের বোলিং কোচ ছিলেন স্ট্রিক। সম্ভবত তখন থেকেই  ক্রিকেট বাজিকর আগারওয়ালের টার্গেটে পড়েন তিনি। সে বছর আইপিএলের পর জিম্বাবুয়ের কোচ হন হিথ স্ট্রিক।

২০১৭ থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আগারওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয় স্ট্রিকের। প্রাথমিকভাবে দিল্লির ‘ব্যবসায়ী’ আগারওয়াল স্ট্রিককে জিম্বাবুয়েতে একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা বলেন। এতে স্ট্রিক মোটা অঙ্কের অর্থ পাবেন বলেও আশ্বাস দেন। সেই সুযোগে স্ট্রিকের বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেয়ে বসেন আগারওয়াল। স্ট্রিকও জিম্বাবুয়ের বাইরের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে দেন। সুসম্পর্ক থেকেই ২০১৭ বিপিএলের সময় স্ট্রিকের কাছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নম্বর চান আগারওয়াল। স্ট্রিক দেরি না করে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নম্বর ও যোগাযোগের মাধ্যম আগারওয়ালকে দিয়ে দেন। আইসিসি বলছে, স্ট্রিকের দেওয়া নম্বরগুলোর একটি ছিল বাংলাদেশের একজন সাবেক অধিনায়কের। ২০১৭ বিপিএলে ডাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়কও ছিলেন সাকিব এবং জাতীয় দলেরও। তাই সাকিবকে নিষিদ্ধ করার সময় আইসিসি ‘সাকিবের পরিচিত’ বলতে স্ট্রিকের কথাই বলেছিল তা নিশ্চিত।

২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করে বাংলাদেশ। ওই সিরিজে জিম্বাবুয়ের কোচ ছিলেন স্ট্রিক। আইসিসি বলছে, ওই সময়ে স্ট্রিক বাংলাদেশ দলের কাছাকাছি ছিলেন। ২০১৮’র ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে এর সত্যতাও পাওয়া যায়।

এরপর ২০১৮ সালে আইপিএলে দলের ভেতরকার খবর আগারওয়ালকে পাচার করেন স্ট্রিক। এতে বিটকয়েনের মাধ্যমে দুবার ৩৫ হাজার ডলার গিফট পান তিনি। এরপর একই বছর আফগানিস্তানের বোলিং কোচ থাকাকালীন আফগান দলের খবর, আফগান প্রিমিয়ার লিগে একটি দলের কোচ থাকাকালীন ওই দলেরও খবর পাচার করেন আগারওয়ালকে। ভারতীয় এই জুয়াড়ি পাকিস্তান সুপার লিগে ক্রিকেটারদের তথ্যও চান স্ট্রিকের কাছে।

আগারওয়াল ২০১৮’র ত্রিদেশীয় সিরিজেই প্রথম সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর সে বছর আইপিএলেও যোগাযোগ করেন। সাকিবসহ তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। বাকি দুই ক্রিকেটার আইসিসি, আকসু এবং বিসিবিকে বিষয়টি জানানোয় শাস্তি হয়নি তাদের। কিন্তু সাকিব কয়েক দফা আগারওয়ালের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েও তা গোপন করেন। যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে না জানানোয় এক বছর ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি। আর আগারওয়াল নিষিদ্ধ হয়েছেন দুই বছর। 

২০১৭ থেকে ১৫ মাস যোগাযোগের আইসিসি আগারওয়ালকে আকসুর কাছে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠায়। ২০১৮ সালের ওই সময়ে স্ট্রিককেও বিষয়টি জানানো হয়। তখন থেকেই দুজনের যোগাযোগ থামে। পরে স্ট্রিক নিজের ওপর আনা অভিযোগ স্বীকার করে নেন, শাস্তিও মেনে নেন।