চিরনিদ্রায় বাংলা একাডেমি সভাপতি শামসুজ্জামান খান

ফোকলোরবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত বুধবার বেলা ২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ^াস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিসভার সদস্যসহ বিশিষ্টজনরা শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যাঙ্গনে শামসুজ্জামান খানের অবদান বাংলাদেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘শামসুজ্জামান খান বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাহিত্যকে অনন্য গবেষণাকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যা ভবিষ্যতেও গবেষণাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়া চীন’ এই বইগুলোর সম্পাদনা ও প্রকাশে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শামসুজ্জামান খান কর্মগুণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

গতকাল বাদ আসর তার পৈতৃক নিবাস মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, সিঙ্গাইর উপজেলা ভূমি কমিশনার, জেলা পুলিশের প্রতিনিধি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট (পিপি) আবদুস সালামসহ এলাকার বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষ। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রয়াত সভাপতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ ছাড়া শোক জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

অধ্যাপক শামসুজ্জামানের জন্ম মানিকগঞ্জ জেলায় ১৯৪০ সালে। তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ও একুশে পদক পেয়েছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন শামসুজ্জামান খান। ২০১৯ সালে তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি স্ত্রীসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শামসুজ্জামান খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন। গত সোমবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে (লাইফ সাপোর্ট) নেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।