১ বছরের মধ্যে লাগতে পারে টিকার তৃতীয় ডোজ : ফাইজার

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বের গবেষকরা ভ্যাকসিনের প্রতি ব্যাপক জোর দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত যে কয়টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, সেগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া প্রত্যেকটিই দুই ডোজের কথা বলে আসছিল। জনসন অ্যান্ড জনসন এক ডোজের টিকা তৈরিও করেছে, তবে তা এখনো ভালো কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারেনি। ভ্যাকসিন তৈরির শুরুর পর থেকেই বিজ্ঞানীদের একদল তৃতীয় ডোজের কথা বলছিলেন। তাদের সেই বক্তব্য আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে সম্প্রতি ফাইজারের এক বিবৃতিতে।

ফার্মা জায়ান্ট ফাইজারের ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পেতে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ যথেষ্ট নয়। তারা বলছেন, করোনার চরিত্র বদলের ফলে জিনের গঠন বিন্যাসের এত পরিবর্তন হয়েছে যে, এই ভাইরাল স্ট্রেন থেকে রক্ষা পেতে ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। ফাইজার সিইও আলবার্ট বোরলা বলেন, ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ হবে ‘বুস্টার’, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ফাইজারের দাবি, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর ছয় মাস থেকে এক বছর পরে এই তৃতীয় ডোজ নেওয়াটা খুবই দরকার। এই ডোজেই শরীরে রোগপ্রতিরোধ শক্তি আরও বাড়বে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা অন্য কোনো জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কোনো বিবৃতি দেয়নি।

করোনাভাইরাস শুরুতে যেমনটা ছিল এখন তার রূপ অনেকটাই পরিবর্তিত। বিশ্বজুড়েই ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনে মিউটেশন বা জিনের গঠন বিন্যাস খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একবারে ২০০ বার জিনের গঠন বদলাতেও দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। স্পাইক প্রোটিনে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডও বদলে যাচ্ছে। তাই ভাইরাল স্ট্রেন দিনে দিনে আরও ছোঁয়াচে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।

ফাইজারের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করে বা জিনের বিন্যাস সাজিয়ে যেমনটা দেখে ভ্যাকসিনের ফর্মুলা তৈরি হয়েছিল, সেই জিনের বিন্যাসই এখন বদলে গেছে। যদিও ভ্যাকসিনে কাজ হবে ঠিকই, কিন্তু সারা বছর সংক্রামক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে শরীরের ইমিউনিটি সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্যই দরকার এই তৃতীয় ডোজ।

সাধারণত ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শরীরে ঢুকে ইমিউন কোষগুলোকে (বি-কোষ ও টি-কোষ) সক্রিয় করার চেষ্টা করে। দেহকোষে ভাইরাসপ্রতিরোধী সুরক্ষা বলয় তৈরি করার জন্য ইমিউন কোষগুলোকে অ্যাকটিভ করা শুরু করে। দ্বিতীয় ডোজে এ কাজটাই সম্পূর্ণ হয়। বি-কোষ সক্রিয় হয়ে প্লাজমায় অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অন্যদিকে টি-কোষ বা টি-লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় সংক্রামক কোষগুলোকে নষ্ট করতে শুরু করে। দুই ডোজের পর যে অ্যান্টিবডি শরীরে তৈরি হয় তা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এই অ্যান্টিবডি কতদিন শরীরে টিকে থাকছে সেটাই হলো আসল প্রশ্ন। বিজ্ঞানীরা কখনো বলছেন, করোনাপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তিন মাসের বেশি থাকছে না, হুট করে কমে যাচ্ছে। আবার কখনো দাবি করা হচ্ছে, অ্যান্টিবডি কম করেও সাত মাস টিকে থাকছে। ফাইজারের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অ্যান্টিবডির স্থায়িত্বকাল যেহেতু কম তাই দুই ডোজে ভরসা না করে বুস্টার ডোজ দরকার। টিকা নেওয়ার প্রায় এক বছর পর যদি এই বুস্টার দেওয়া হয়, তাহলে আবারও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, আরও কয়েক মাস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে।