হত্যা মামলার আসামির বাড়ি পাহারায় পুলিশ!

রাজশাহীতে হত্যা মামলার তিন আসামির বাড়ি ছয় দিন ধরে পাহারা দিচ্ছে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হামলার আশঙ্কায় মহানগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় তিনতলা বাড়িটি পুলিশের দুটি দল পালা করে পাহারা দিচ্ছে। গত শনিবার রাতে ওই বাড়ির ছেলে মাধব কুমার সরকারের (৩৮) ছুরিকাঘাতে আনসার বাহিনীর সদস্য মিজানুর রহমান মিজান (৩০) প্রাণ হারান।

হেতেমখাঁ এলাকারই বাসিন্দা মিজান আনসার বাহিনীর হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন। মাধব ছিলেন তার বন্ধু। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিজানকে ছুরিকাঘাত করেন মাধব। এরপর তিনিসহ আরও কয়েকজন মিজানকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক মিজানকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন মাধব পালিয়ে যান।

এরপর রাতেই ক্ষুব্ধ জনতা মাধবের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর রাতেই মাধব গ্রেপ্তার হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু এখনো তার বাড়িতে হামলার আশঙ্কায় পুলিশ পাহারা থাকছে। দুটি দল পালা করে পাহারা দিচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে মাধবের বাড়ির সামনে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের পাহারা দিতে দেখা যায়। দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন নগরীর বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম। বাড়িটির সামনে অবস্থান নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়দিন আগে যে খুনের ঘটনা ঘটল, তারই পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এ বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, পুলিশের দুটি দল পাহারা দেয়। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একটা দল বাড়ির সামনে থাকে। আরেকটি দল দায়িত্ব পালন করে রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, মিজান হত্যা মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাধব ছাড়া অন্য দুজন হলেন তার ভাই যাদব কুমার সরকার (৩২) ও চাচাতো ভাই মিলন কুমার সরকার (২৮)। তারা তিনজনই একই বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার পর থেকে যাদব ও মিলন বাড়িতে আসেননি। তারা পলাতক।

ওসি নিবারণ বলেন, ‘গ্রেপ্তার মাধবকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তিনি আনসার সদস্য মিজান হত্যায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

হত্যা মামলার আসামিদের বাড়ি পাহারা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু আসামিদের বাড়ি পাহারা দিচ্ছি এমনটি নয়। ঘটনার দিন থেকেই এলাকাবাসী বেশ উত্তপ্ত। এজন্যই বাড়তি সতর্কতার জন্য ওই এলাকাতে পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্যই পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’