রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে। করোনা মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত লকডাউন বা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কোনো সরকারি কর্মকর্তার কর্মস্থল ত্যাগ করার অনুমতি না থাকলেও রাকাবের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই আদেশ সঠিকভাবে মানছেন না। খোদ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল নিজেই গত কয়েকদিন ধরে নিজ কর্মস্থল রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
এছাড়া রাকাবের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) (প্রশাসন) জয়নাল আবেদিন, মহাব্যবস্থাপক জয়নুল ইসলাম (অপারেশন) ও মহাব্যবস্থাপক (রাজশাহী) কামিল বোরহান ফেরদৌসও কর্মস্থলে নেই। অর্থাৎ ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের ৫জন জিএম-এর মধ্যে তিনজনই কর্মস্থলে নেই।
এসব বিষয়ে ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ ইসমাইল গতকাল শনিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে ঢাকায় আছি। কালকের (রবিবার) মধ্যে রাজশাহীতে পৌঁছে যাব।’
এছাড়া অন্য যেসব বড় বড় কর্মকর্তারাও কর্মস্থলে নেই তারাও রবিবারের মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছাবেন বলে জানান ব্যাংকটির এমডি। তবে লকডাউনের মধ্যে সরকার যেখানে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় লোকজনের যাতায়াত সীমিত করতে দূরপাল্লার পরিবহনও বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে সেখানে সরকারের বড় বড় কর্মকর্তাদের নিজ গাড়িতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা। এতে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
জানা গেছে, রাকাবের চেয়ারম্যান রইসুল আলম ম-ল নিজেও করোনায় আক্রান্ত বলে জানা গেছে।
এই সময়ে ব্যাংকটির আরও অনেক কর্মকর্তাই নিজ নিজ কর্মস্থলে নেই বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে উপমহাব্যবস্থাপক রনজিৎ কুমার সেন এবং সহকারী মহাব্যবস্থাপক বাবুল আক্তারও নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত নেই বলে জানা গেছে। এদের দুজনের কর্মস্থল রাজশাহীতে হলেও তারা নাটোর থেকে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করেন।
এছাড়া প্রধান কার্যালয়ের আইন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মাহমুদ হোসাইন রাজশাহীর পরিবর্তে গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকায় রয়েছেন।
এদিকে রাকাবের ঢাকা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবদুর রউফ গাজীপুর থেকে অফিস করছেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি রোস্টার পদ্ধতিতে অফিস করছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ঢাকা শাখার ব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান বলেন, গাজীপুর যেহেতু ঢাকার পাশর্^বর্তী জেলা সেহেতু আমরা তাকে গাজীপুর থেকেই অফিস করার অনুমতি দিয়েছি।
লুৎফর রহমান বলছেন, ‘গত দুই সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে এত দ্রুত লকডাউনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে যে আমাদের মধ্যে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টিও হয়েছে। তাছাড়া আমাদের শাখায় কভিড আক্রান্ত হয়েছেন দুজন। আরও কেউ কেউ অসুস্থ আছে। এই পরিস্থিতিতে যতটা সম্ভব কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ব্যাংকটির ঢাকার করপোরেট শাখায় সঠিকভাবে রোস্টার অনুসরণ করা হচ্ছে না বলেই কর্মীরা কর্মস্থলের বাইরে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত ১৩ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য সব দিন ব্যাংক খোলা থাকবে। তবে ব্যাংকগুলোকে কিছু শাখা বন্ধ রাখার এবং কর্মীদের রোস্টার পদ্ধতিতে অফিস করার সুযোগ দেওয়া হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাকাবের প্রধান কার্যালয় থেকে গত ১৩ এপ্রিল এক নির্দেশনা জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, ঢাকা করপোরেট শাখা, রাজশাহীর স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট জোনের হেডকোয়ার্টার শাখা, সব উপজেলা সদর শাখা এবং রাজশাহী ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সব শাখা খোলা থাকবে। এছাড়া অন্য সব শাখা বন্ধ রাখতে বলা হয়। এই সময়ে সব কর্মীকে তার নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে বলা হয় ওই নির্দেশনায়।
তবে ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাকাবের সিরাজগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ফারজানা জামান এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। এছাড়া রাকাবের প্রধান কার্যালয়ের অডিট বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জোবদুল হক ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাহমুদুল হোসেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোনাল ব্যবস্থাপক মো. আখতারুজ্জামানও কর্মস্থলের বাইরে রয়েছেন।