মিষ্টি মেয়ে নাম দিয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ

ঢালিউডের মেগা স্টার মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা পরিচালিত ও অভিনীত প্রথম সিনেমার নায়িকা ছিলেন মিষ্টি মেয়ে কবরী। সেই থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাদের বন্ধুত্ব ছিল অটল। প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন এই অভিনেতা। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

প্রথম পরিচয়...

আমার অভিনীত ও পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘মাসুদ রানা’র নায়িকা তিনি। আমার মতো নতুন হিরোর সঙ্গে তখনকার কোনো বড় তারকা কাজ করতে আগ্রহ দেখাননি। কিন্তু কবরীকে প্রস্তাব দেওয়ার পর সানন্দে রাজি হন। সেই থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের বন্ধুত্ব ছিল অটুট। আমিও তার প্রথম পরিচালিত ছবি ‘আয়না’য় কাজ করেছি। যে ছবিটি শেষ নির্মাণ করছিলেন, তাতেও আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু অসুস্থতার জন্য করা হয়নি।

শেষ কথা...

করোনা আক্রান্ত হওয়ার আগেই তার সঙ্গে কত কথা হলো ফোনে। তার সশব্দ হাসি এখনো কানে বাজছে। জীবনে কত বাঁক এসেছে তার, এত বর্ণাঢ্য জীবন। কিন্তু কখনো ভেঙে পড়েননি। জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তকে উপভোগ করেছেন। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত শিল্পী, প্রকৃত মানুষ ও প্রকৃত লিজেন্ড।

অভিনয়...

অভিনয়কে প্রচ- ভালোবাসতেন। তার অভিনয় দেখে মনে হতো না যে কোনো চরিত্রে অভিনয় করছেন। মনে হতো, তাকে ভেবেই চরিত্রটি লেখা হয়েছে। সিনেমার বড় তারকাদের নামের পাশে বিশেষণ যোগ করা হয়। যেমন আমাকে বলা হয় ড্যাশিং হিরো। আরও অনেককে বলা হয় বিউটি কুইন, হিরোইন ট্যালেন্ট, মেগাস্টার ইত্যাদি। এগুলো আসলে শিক্ষিত সমাজের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা থেকে এসেছে। কিন্তু একজন মাত্র শিল্পী কবরী, যার বিশেষণ ‘মিষ্টি মেয়ে’ এসেছিল অটোমেটিক্যালি। তাকে এই নাম দিয়েছিলেন তখনকার কৃষক, শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষেরা। কারণ, বাঙালি যুবক তার স্বপ্নে বাঙালি নারী বলতে যা কল্পনা করেন কবরী যেন ঠিক সেই রূপেরই প্রতিনিধিত্ব করেন।

বিশেষত্ব...

তার যে গুণটি সবচেয়ে ভালো লাগত তা হলো, লোক দেখানোর জন্য কখনো কিছু করেননি। নিজে যা বিশ্বাস করতেন, তা-ই প্রকাশ করতেন। একই সঙ্গে ছিলেন খুব দুষ্টু আর খেয়ালি স্বভাবের। দুটি স্মৃতি মনে পড়ছে। প্রথম সিনেমা করছি, প্রথম দিনেই সেটে এসে আমাকে চুপি চুপি বললেন, ‘ছবিতে নায়িকা তো দুজন (কবরী আর অলিভিয়া)। দেইখেন, আবার ওই নায়িকার দিকে যেন মনোযোগ বেশি না চলে যায়!’ তার এই সেন্স অব হিউমারের জন্য প্রথম দিন থেকেই ভক্ত হয়ে যাই। আরেকটি ঘটনা মনে পড়ছে। এফডিসিতে নিজের প্রযোজিত সিনেমার শ্যুটিংয়ে সবাই এসেছে ভোরে। কিন্তু তিনি এলেন বেলা ৩টায়। আমি বললাম, আমি কি পাগল! নিজের প্রযোজিত সিনেমায় কেউ এভাবে লস করে? তিনি উত্তরে বললেন, ‘পারভেজ ভাই, আমি যখন অন্য প্রযোজকের ছবিতেও দেরি করে সেটে যাই, তখন মুখে তারা হাসি রেখে বলেন, “কী খাবেন, ম্যাডাম, কিছু লাগবে কি না।” কিন্তু মনে মনে ঠিকই গালি দেন। কিন্তু এটা তো আমার ছবি। এখানে দেরি করে এলেও কেউ গালি দেবে না। আমি এমনই। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করি।’ বলেই সেই হো হো হাসি। এসব মনে করে আর শান্ত থাকতে পারছি না। বুকটা কষ্টে ভেঙে যাচ্ছে। আল্লাহ তাকে শান্তিতে রাখুন।