জীবিত থাকলেও এনআইডির তালিকায় মৃত শতাধিক মানুষ!

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের বাসিন্দা সহিদা বেগম (৮৪)। ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী স্বামী ফজির উদ্দিন ইসাহাক মারা গেছেন এক যুগ আগে। স্বামীর মৃত্যুর পর তার অবসর ভাতার সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলছিল সহিদার। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ‘গাফিলতিতে’ সেই টাকা পাওয়ার পথও বন্ধ তার। কারণ বেঁচে থেকেও সরকারি নথিতে এখন মৃতের তালিকায় বয়োবৃদ্ধ এই নারী। জীবিত থেকেও মৃত ভোটারের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি হওয়ায় প্রায় ১৪ মাস ধরে প্রয়াত স্বামীর অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারছেন না সহিদা। শুধু তা-ই নয়, ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবিত ও মৃত’ ছোটগল্পের বিখ্যাত একটি উক্তি ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই’। সৌভাগ্যবশত প্রত্যেকে কাদম্বিনীর মতো অভাগী নন। জীবিতাবস্থার প্রমাণ দেওয়ার জন্য জীবন ত্যাগের চূড়ান্ত পদক্ষেপ না নিলেও নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চিরিরবন্দরের সহিদার মতো দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের আরও অনেকেই। নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক জীবিত মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ‘মৃত’ বানিয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় জীবিত এসব মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ, ব্যাংক ঋণ, সরকারি সুবিধার ভাতার টাকা উত্তোলন এবং করোনার টিকার রেজিস্ট্রেশনসহ নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলেও প্রতিকার মিলছে না; যা নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ দ্রুত পুনঃভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসে ছয় মাস ধরে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি চিরিরবন্দরের সহিদা বেগমের। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জানতাম না ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম কর্তন করা হয়েছে। স্বামীর অবসর ভাতা তুলতে ব্যাংকে গিয়ে শুনি যে আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। আমি নাকি মৃত। আমি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছি। আমাকে কেন মৃত হিসেবে দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তন করা হলো, তার বিচার চাই। কে আমাকে মেরে ফেলেছে, এ বিষয়ে তদন্ত করা হোক।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ আমাকে ছয় মাস ধরে হয়রানি করছে। ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করেছি। এখনো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বারবার যোগাযোগ করে এখন পর্যন্ত কাজ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছি। নির্বাচন অফিস থেকে ভাতার বই নিয়ে ঢাকায় গিয়ে তদবির করতে বলেছে। প্রচ- আর্থিক কষ্ট ও করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকায় গিয়ে তদবির করা অসম্ভব। এদিকে অর্থাভাবে অনাহারে বিনা চিকিৎসায় নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছি।’

এ প্রসঙ্গে আব্দুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ ময়েন উদ্দিন শাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই মহিলার (সহিদা) নাম ভোটার তালিকায় ভুলবশত কর্তন করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জীবিত ও সুস্থ আছেন। আমি ওই মহিলাকে জীবিত থাকার একটি প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ভোটার তালিকায় ওই মহিলার (সহিদা) নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ঢাকার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবরে পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফিরতি কোনো পত্র পাইনি। তবে খুব শিগগির এই সমস্যার সমাধান করা হবে।’

একইরকমভাবে দিনাজপুরের হাকিমপুরে জীবিত থাকলেও হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অনেককে মৃত দেখানো হয়েছে। তারা নিজেদের জীবিত প্রমাণের চেষ্টায় সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন। উপজেলা নির্বাচন অফিস ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী হাকিমপুর উপজেলায় ২৫-৩০ জনের এমন অবস্থা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন আটজন। এ ছাড়া বিভিন্ন ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য অনেকে ঘুরছেন নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে।

হিলির খাট্টাউছনা হিন্দুপাড়া গ্রামের মিনতী বালা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এখনো জীবিত আছি, কিন্তু ভোটার তালিকায় আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, কাজকর্ম করে খাই। সরকারি ১০ টাকা কেজির চাল পেতাম, সেটিও আর পাচ্ছি না এই ঝামেলার কারণে। কোনো এনজিও বা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিছু করব, সেটিও পারছি না। সবাই বলছে, আপনি মৃত। যার কারণে খুব ঝামেলার মধ্যে পড়ে আছি।’

হিলির পালপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখনো জীবিত আছি, আল্লাহপাক এখনো আমাকে তুলে নেয়নি। কিন্তু আমি জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিছে। আমি একজন পঙ্গু মানুষ, বয়স্ক ভাতা পেতাম, তা দিয়ে ওষুধসহ অন্যান্য খরচ মেটাতাম। কিন্তু এই “মৃত” হওয়ার কারণে সেটিও বেশ কিছুদিন ধরে পাচ্ছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অফিসে যারা কাজ করছে, তাদের ঠিক সময়মতো অফিসে গেলেও পাওয়া যায় না। আর যিনি বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন, উনি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না। আজ দুই মাস হয়ে গেল কাগজপত্র দিয়েছি ঠিক করার জন্য, কিন্তু কোনো গুরুত্ব নেই, এখন পর্যন্ত কিছু করেনি। টাকা-পয়সা আমরা দিতে পারি না বিধায় আমাদের কাজ হয় না।’

হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানও জীবিত থেকে ভোটার তালিকায় মৃত। তিনি হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন। যার কারণে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা-পয়সার লেনদেন করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের গাফিলতিতে তাকে পদে পদে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে। মিজানুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি নির্বাচন অফিসে কাগজপত্র জমা দিয়েছি ঠিক করতে, কিন্তু তারা আজ না কাল এভাবে ঘুরাচ্ছে। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে আমার এটি দরকার।’

এ প্রসঙ্গে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শফিকুর রহমান আকন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সদ্যই হাকিমপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার পদে যোগদান করেছি। যোগদানের পরেই দেখতে পাই জীবিত কিছু ব্যক্তির নাম মৃত ব্যক্তির তালিকায় চলে আসছে। এগুলো পূর্ববর্তী যে কর্মকর্তা ছিল তখন হয়েছে। আমি এই তালিকাগুলো জেলা নির্বাচন অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন সেগুলো সংশোধনের কার্যক্রম চলছে।’

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের ধরধরা প্রধানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জীতেন্দ্রনাথ বর্মণ জীবিত থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ স্বাভাবিক সব কার্যক্রম চালিয়ে এলেও নির্বাচন কমিশনের সার্ভার থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সার্ভারে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। বোদা উপজেলা নির্বাচন অফিস ২০১২ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় জীতেন্দ্রনাথকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে নাম না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ইএফটিতেও (ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার) নাম নিবন্ধন করতে পারেননি। ফলে বেতন-ভাতা হচ্ছে না, ফিক্সেশনও হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ইএফটি করতে গেলেও অনলাইনে তার আবেদন গ্রহণ হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

একই উপজেলার বোদা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নগরকুমারী এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন মনু ২০০৮ সালে ভোটার হন। বোদা উপজেলা নির্বাচন অফিস ২০১৪ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদে তাকে মৃত দেখিয়েছে এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছে। যে কারণে ব্যাংকে ঋণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, এমনকি করোনার টিকার রেজিস্ট্রেশনও করতে পারেননি।

পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলায় জীবিত যেসব মানুষকে মৃত বানানো হয়েছে তারা হলেন বোদা পৌরসভার নগরকুমারী গ্রামের বাসিন্দা ভারতী; বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. অছিরউদ্দিন; একই উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের সনেবালা; ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের মাঝাপাড় গ্রামের মোছা. নারগিছ; ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ গ্রামের জিরন বালা; একই ইউনিয়নের লাঙ্গলগাঁও গ্রামের কাহাবানী; চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী, একই গ্রামের মো. আজিমউদ্দিন, মো. মকবুল হোসেনসহ পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের আওতাভুক্ত ১২ জন। এ ছাড়া তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে ৪ জন এবং আটোয়ারী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ১ জন জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ভাতা প্রদানের কার্যক্রম হাতে নেওয়ায় অনলাইন ডেটাবেইস তৈরিতে অনেকের ডেটা অসম্পূর্ণ দেখাচ্ছে। এই সুবিধাভোগীরা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারছেন, ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের চলমান এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে জীবিতকে মৃত বানানোর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন মনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জীবিত আছি। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছি। ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছি। আমাকে কেন মৃত হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তন করা হলো, তার বিচার চাই। কে আমাকে মেরেছে, এ বিষয়ে তদন্ত করা হোক।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের কথার মূল্য নাই। আমাকে একাধিকবার হয়রানি করেছে। ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বোদা উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করেছি। এখনো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ বিষয়ে সুষ্ঠু কোনো সমাধানের কথাও জানাতে পারেনি। বারবার যোগাযোগ করে এখন পর্যন্ত কাজ না হওয়ায় আমি হতাশ হয়ে পড়েছি।’

আরেক ভুক্তভোগী বোদার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা যাচাই-বাছাই না করে লোকমুখের কথা শুনে জীবিত ব্যক্তিদের মৃত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, এটা কি মগের মুল্লুক নাকি! তাদের ভুলের কারণে আমার বৃদ্ধ বাবার ভাতা আটকে গেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, এ জন্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার এলাকার ১০-১২ জন জীবিত লোককে মৃত বানানো হয়েছে। আমি ইতিমধ্যে ৫-৭ জনকে পুনঃভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রত্যয়নপত্র দিয়ে আবেদন করিয়েছি।’

এসব ভুলের বিষয়ে জানতে চাইলে বোদা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো এখানে যোগদান করেছি। আমি অনেক বিষয় বলতে পারব না। এগুলো কীভাবে হয়েছে তা আমার জানা নেই। আগের কোনো ডকুমেন্টও অফিসে নেই। তবে ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছে। আরও কয়েকটি আসতে পারে। যেসব আবেদন পেয়েছি, সেগুলো আমি জেলা নির্বাচন অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি। জেলা কর্মকর্তার সুপারিশের পর এসব আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।’ ১২ নম্বর ফরমে তথ্য প্রাপ্তির পর মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং ওই ফরমে তথ্যসংগ্রহকারী, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সিল-স্বাক্ষর থাকে বলেও জানান এই নির্বাচন কর্মকর্তা।

ভোটার তালিকা হালনাগাদে বড় ধরনের এসব ভুলের বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, ‘মৃত্যুজনিত কারণ ছাড়া অন্য কোনো কারণে কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায় না। হালনাগাদ করার সময় কোনো ডিজিট ভুলের কারণে বা তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা ভুলবশত এমনটি করতে পারে। আমি বোদা উপজেলা থেকে এমন ২০টি আবেদন পেয়েছি, যেগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কে কীভাবে এটি করল, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন দেশ রূপান্তরের পঞ্চগড় প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম শহীদ, দিনাজপুর সংবাদদাতা কুরবান আলী ও দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম খোকন।