দ্বিগুণ দামে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রমজানের সবজি

এপ্রিলের শুরুতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কেজিপ্রতি টমেটো খুচরায় ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ রমজানের এক দিন আগেই টমেটোর কেজি একলাফে ৫০ টাকা ছাড়ায়। এখনো বাজার ও মানভেদে পণ্যটির দাম ৪০-৫০ টাকা। অথচ টমেটোর এখন ভরা মৌসুম চলছে। হঠাৎ দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের এক বিক্রেতা বলেন, ‘লকডাউনে (সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ) ঠিকমতো মাল আসে না। ওদিকে রমজানে চাহিদাও বেশি। এ জন্য দামও একটু বেশি। আর এখন তো মৌসুম শেষ হওয়ার পথে। তাই দাম দিনে দিনে বাড়বে।’

রমজান শুরুর দু-এক দিন আগে থেকেই টমেটোর মতো হঠাৎ বেড়ে গেছে বেগুন, শসা, গাজর, করলা, লেবু, আনারসসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। অথচ ১৫ দিন আগেও এসব পণ্যের দাম প্রায় অর্ধেক ছিল। শসা ও বেগুনের দাম টানা দুই-তিন দিন শতকের ওপর থাকলেও গতকাল তা কিছুটা কমেছে। মূলত রমজানে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। যতটা না পাইকারিতে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে খুচরায়। এ জন্য বাজারভেদে দামেও দেখা গেছে বিস্তর ফাঁরাক। ক্রেতারা বলছেন, খুচরা বাজারে; বিশেষ করে সবজির বাজারে সরকারের তেমন কোনো নজরদারি নেই। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন অসাধুরা ব্যবসায়ীরা।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে কেজিপ্রতি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। তবে কারওয়ান বাজার থেকে কিনলে ৪০-৫০ টাকায় মিলছে। কেজিপ্রতি বরবটি, পটোল, করলা, ঢেঁড়স, কচুরলতি, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে এসব সবজির দাম ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রমজানের আগে প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ রোজার শুরু থেকেই এগুলোর দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে গতকাল কোনো কোনো বাজারে ৮০-১০০ টাকা দরে বেগুন পাওয়া গেছে। ১২ এপ্রিল থেকে বাজারে দেশি শসার কেজি বিক্রি হয়ে আসছিল ১২০ টাকা দরে। গতকাল দাম কিছুটা কমেছে। কেজিপ্রতি দেশি শসা ৮০-১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ৬০-৮০ টাকা নিচ্ছেন বিক্রেতারা। আর মানে একটু খারাপ হলে ১০ টাকা ছাড়ও মিলছে।

এবার রমজানে সবচেয়ে বেশি ‘ভেলকি’ দেখিয়েছে লেবু। কয়েক বছর ধরে দেশে লেবুর বাম্পার ফলন হচ্ছে। যার বদৌলতে এখন বারো মাসই পাওয়া যাচ্ছে পণ্যটি। দামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এত দিন খুব ভালো মানের লেবুর ডজন সর্বোচ্চ ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। এ ছাড়া ৫০-৬০ টাকা দরেই পাওয়া যাচ্ছিল পণ্যটি। সরকার ৫ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ চালু করলে দাম কিছুটা বাড়ে। আর রোজা শুরুর পর দাম লাগামছাড়া অবস্থায় পৌঁছায়। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভালো মানের লেবুর ডজন ২২০-২৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। নিম্নমানের লেবু কিনতেও ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। এমন অবস্থা রাজধানীর সব বাজারে। বাজারে বেড়েছে আনারসের দামও। এত দিন ১০ টাকা দরে আনারস মিললেও এখন প্রতিটি আনারসের সর্বনিম্ন দাম নিচ্ছে ৩০ টাকা। আর সর্বোচ্চর তো সীমা নেই।

শাহীন নামের এক বিক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনায় লেবুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ ডজনে ডজনে লেবু কিনছে। এ জন্য দামও অনেক বেড়ে গেছে। তবে কয়েক দিন গেলে দাম কিছুটা কমবে।

তবে রমজানেও আগের দামেই আছে চালের দাম। বাজারে কেজিপ্রতি মিনিকেট চাল ৬৫, মোটা (পাইজাম) ৫০, ব্রি-২৮ চাল ৫৫ এবং নাজিরশাইল ৬৮-৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ টাকা দরে। পেঁয়াজের কেজিও মিলছে আগের মতোই ৩৫-৪০ টাকায়।

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারের ক্রেতা রিফাত তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কারওয়ান বাজার থেকে এই বাজারের দূরত্ব এক কিলোমিটারও হবে না। অথচ খুচরায় দামে বিস্তর ফাঁরাক। এমন অবস্থা সবখানে। রমজান এলে খুচরা ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়া হয়ে পড়েন। মূলত সরকার সবজির বাজার নিয়ে কখনোই পর্যবেক্ষণ করে দেখে না। এ সুযোগটাই নিচ্ছেন বিক্রেতারা।