মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের জন্য কারাগার ‘খালি’ হচ্ছে!

সামরিক অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের ধরপাকড় ও সহিংসতায় মৃত্যুর মধ্যেই দেশজুড়ে ২৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এ বন্দিদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে মূলত অন্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

এদিকে ২৪ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান)  সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, সাধারণত বছরে একবার হাজারো অপরাধীকে সাধারণ ক্ষমা দিয়ে থাকে মিয়ানমারের সরকার। এবারও সেই ধারাবাহিকতাতেই ২৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এ বছরের শুরুতেই বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। বন্দি করা হয়েছে অং সান সু চিসহ বিভিন্ন নেতাকে। এর প্রতিবাদে কিছুদিন ধরেই দেশটিতে চলছে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভ দমনে জান্তা সরকারও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে সাত শতাধিক বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন।

এই ২৩ হাজার বন্দির মধ্যে আটক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীরাও আছেন কি না, সেটি অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিয়ানমারের কারাগারসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শনিবার থেকেই বন্দিদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে জান্তা সরকার কয়েকজন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল। ওই সময় মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে আটক বিক্ষোভকারীদের রাখার জন্য জায়গা করতেই কারাগারে থাকা পুরনো বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি জান্তা সরকার

আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে। বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নেতা ও জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তানি সাঙ্গরাত রয়টার্সকে বলেন, জাকার্তায় আসিয়ান সম্মেলনে জোটের ১০ দেশের কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং রয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।