সংক্রমণ প্রতিরোধে ছয় ফুট দূরত্ব কি যথেষ্ট?

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষ থেকে মানুষে ছয় ফুট দূরত্ব যথেষ্ট কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একটি ঘরে একাধিক লোক দূরত্ব বজায় রেখে থাকলেও, তা কীভাবে বিপজ্জনক হতে পারে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) দুই বিজ্ঞানী।

‘কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ম্যাথম্যাটিকস’ বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন জেড বাজান্ট এবং জন ডব্লিউ এম বুশ-এর তৈরি করা গাইডলাইনটি প্রকাশিত হয়েছে পিএনএএস জার্নালে।

তাতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে: একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কত জন মানুষ কত ক্ষণ থাকলে কী হতে পারে। তারা মাস্ক পরে থাকলে কী হবে, না-পরে থাকলে কী হবে, ঘরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা কতটা দায়ী ইত্যাদি।

গাইডলাইনটি তৈরি করা হয়েছে ব্যবসায়ী, অফিসকর্মী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে। মাস্ক পরে, দূরত্ববিধি মেনে স্কুল-কলেজ-অফিস চালু রাখা আদৌ কতটা নিরাপদ, সেটাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এ পর্যন্ত গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানুষ যখন কথা বলছেন, কাশি দিচ্ছেন, হাঁটছেন, গান গাইছেন কিংবা খাচ্ছেন, ভাইরাসটি তখন সংক্রমিত ব্যক্তির মুখ থেকে বেরিয়ে বাতাসে ভাসমান জলকণায় ঝাঁপ দিচ্ছে। বাতাসে মিশে গিয়ে ওই অবস্থায় তারা দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারে। এবং কোনও বদ্ধ জায়গার বাতাসে সম্পূর্ণভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এভাবেই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তার প্রমাণও মিলেছে।

বুশ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ৬ ফুট দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ঘরের ভেতরে, কোনও বদ্ধ জায়গায় এই নিয়ম কতটা খাটে, তা জানতেই আমরা গবেষণা শুরু করি।’

সম্পূর্ণভাবে সংগৃহীত তথ্য ঘেঁটে অঙ্ক কষে গাইডলাইনটি তৈরি করেছেন বুশরা। বদ্ধ জায়গায় কোনও সংক্রমিত ব্যক্তি ঢুকলে, তার থেকে অন্যদের সংক্রমিত হতে কতক্ষণ সময় লাগবে, তার হিসেব করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনও দোকান হলে হয়তো সময়টা কয়েক মিনিট, রেস্তরাঁয় তুলনায় জায়গা বড়, তাই হয়তো এক ঘণ্টা। স্কুল-অফিস হলে হয়তো কয়েক ঘণ্টা। এক জন মানুষ একটি বদ্ধ জায়গায় কত ক্ষণ নিরাপদ, তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এমআইটি-র দুই অধ্যাপক।

বুশ বলেন, ‘ব্যাপারটা এ রকম: দ্রুত বদলাচ্ছে প্রেক্ষাপট। নিশানা ক্রমশ জায়গা বদল করছে। ফলে তাকে শেষ করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।’

বাজান্ট এবং বুশ একটি বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে যে বিধি তৈরি করা হয়েছে, সেটা সব পরিস্থিতিতে যথেষ্ট কার্যকরী নয়। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ওই সহজ নিয়মে বিপদ কাটছে না।