হেফাজতের তান্ডবে বিএনপি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,  স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের তান্ডবের সঙ্গে বিএনপি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী সড়ক জোন, বিআরটিসি, বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বাসভবন থেকে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের গত কয়েকদিনের কথাবার্তা শুনলে মনে হয়, হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক তান্ডবলীলার তারা শুধু পৃষ্ঠপোষকই নয়, এসব সহিংস ঘটনায় তারা জড়িত ছিল।

 তিনি বলেন, ‘কোনো দল বা আলেম ওলামা দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা এ তান্ডবলীলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, বাড়ি ঘরে হামলা ও আগুন দিয়েছে, তাদের ভিডিও দেখে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

 সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিএনপি নেতাদের এমন দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দলি কাদের বলেন, ‘গত ১৩ বছর যাবৎ ধারাবাহিক ব্যর্থতার গ্লানিবোধ থেকে বিএনপি এসব কথা বলে প্রকৃতপক্ষে সরকার নয়, বিএনপিই জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত ও গণবিচ্ছিন্ন।’  করোনার এ সময়ে রাজনৈতিক বিরূপ মন্তব্য করা সমীচীন নয় জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পারস্পরিক দোষারোপ কারোরই এ সময় করা উচিত নয় কিন্তু নিত্যদিন বিএনপির মিথ্যাচার ও অন্ধ সমালোচনার জবাব দিতে হয়। জন্মলগ্ন থেকে যে দল অগণতান্ত্রিক পথরেখা ধরে হেঁটেছে তারা আজ গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা সেজেছে এবং সবক দিচ্ছে দেশ ও জাতিকে।’

‘বিএনপির গণতন্ত্র হচ্ছে না ভোটের বাক্সবিহীন হ্যাঁ-না ভোট আর রাতের বেলায় কারফিউ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির গণতন্ত্র মানে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন, মাগুরা, ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচন আর এক কোটি তেইশ লাখ ভুয়া ভোটারের প্রস্তুতি। বিএনপির গণতন্ত্র ছিল আধা সের পানি, এক মুষ্টি গুড়, আর এক চিমটি লবণের ওরস্যালাইনের মতো। নিজ দলে নেই গণতন্ত্রের চর্চা, নেই সম্মেলন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রাহকদের কাছে বিআরটিএকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে হয়রানি আগের তুলনায় কমলেও কিছু কিছু এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদ এলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করতে থাকব। বাকি সময় কি ক্ষতি হতেই থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করতে হবে। এখানে ঈদ আর বর্ষার বিষয় নয়। ঈদ বা বর্ষা এলে তাড়াহুড়ো করে খোয়া, বালু দিয়ে কোনোরকমে গর্ত ভরাট করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস্তবে গর্ত আরও বড় হয়ে যায়, রাস্তা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ বর্ষা চলাকালে রাস্তার দীর্ঘস্থায়ী কোনো মেরামত করা যায় না। তাই যে কাজটি যখনকার, তখনই করতে হবে এবং সারা বছরই কাজ করতে হবে।’  প্রকৌশলীদের দায়িত্ব পালনে সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব আনবেন না। কাজটা মেয়াদের মধ্যেই করার চেষ্টা করুন। কাজের মান ঠিক রেখে, গতি বাড়াতে হবে। দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। ঠিকাদারদের কাজ দিলেই শুধু হবে না, কাজ বুঝেও নিতে হবে, কাজটা তারা যথাযথভাবে করছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।’