গত বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই চিকিৎসকরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ সেই চিকিৎসকদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন অভিযোগ করেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বিবৃতির একদিন পর এই বিবৃতি দিল ড্যাব।
সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালামের যৌথ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে চিকিৎসকদের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ‘সমন্বয়হীনতারও’ সমালোচনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে ড্যাব নেতারা বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার পর থেকেই সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের পেশার মান সমুন্নত রাখতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। সারা বিশ্ব তাদের এই আত্মত্যাগকে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সম্মানিত করছে। বাংলাদেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যতীত সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে করোনার বিরুদ্ধে নিরলসভাবে লড়াই করে যাচ্ছেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা করতে গিয়ে ইতিমধ্যে ১৮৩ চিকিৎসক শহীদ হয়েছেন। সহস্রাধিক চিকিৎসকসহ অসংখ্য স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনে আছেন। অথচ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ শুরু থেকেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিবর্তনমূলক, অসম্মানজনক, বৈষম্যমূলক, বিমাতাসুলভ আচরণ করছে এবং বিভিন্নভাবে নাজেহাল করছে।’
তারা আরও বলেন, ‘সবশেষ গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউনের প্রজ্ঞাপনে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করছি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে হয়রানি করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে জরিমানাও করা হয়েছে। এটা স্পষ্টতই সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার এবং চিকিৎসক সমাজের প্রতি কোনো বিশেষ মহলের আক্রোশ ও প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।’ আর তাই এসব আচরণ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ড্যাব নেতারা।