দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অর্ধশতাধিক প্রকৌশলী আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারের ইমারত নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষায়িত এ প্রতিষ্ঠান করোনা মোকাবিলায় রাজধানীসহ সারা দেশে সব জেলাতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই সরকারি হাসপাতাগুলোতে সব ধরনের পূর্ত সংক্রান্ত সহায়তা করার নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। সম্প্রতি সংস্থাটির করা তালিকায় দেখা গেছে, ৮ জন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ৮ জন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ১৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী, ৯ জন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও ২ জন সহকারী প্রকৌশলীসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক প্রকৌশলী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আক্রান্ত কেউ কেউ করোনা পরীক্ষা করার পর ফলাফল নেগেটিভ এলেও নতুন করে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন।
গণপূর্তের প্রকৌশলীরা জানান, দেশের এ দুর্যোগকালে রক্ষণাবেক্ষণের সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দেশে করোনারা সংক্রমণ শুরুর পর আশকোনার হজ ক্যাম্প কোয়ারেন্টাইনের উপযোগী করা, হাসপাতালগুলোতে পিসিআর ল্যাবরেটরির অবকাঠামো নির্মাণ, আইসোলেশন ইউনিট নির্মাণ, কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন, করোনা ইউনিট স্থাপন, আইইডিসিআরের নিচতলায় স্যাম্পল কালেকশন কক্ষ ও ক্যানটিন এবং ডিউটি ডাক্তারদের থাকার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালকে আধুনিকায়নসহ আইসিইউ নির্মাণ এবং করোনা রোগীদের ব্যবহারসামগ্রী পোড়ানোর জন্য ইনসিনারেটর নির্মাণ, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং আইসিইউ নির্মাণ করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে নানা ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করাসহ জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজটিও নিয়মিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা মেডিকেলসহ বেশ কিছু হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবরেটরির অবকাঠামো নির্মাণের কাজও শেষ করা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রকল্প সার্কেল-১) ও বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. খালেদ হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে গণপূর্তের প্রকৌশলীরা করোনা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে গত বছর প্রকৌশলীদের বৈশাখী ভাতার ৫০ শতাংশ ৬০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘চলমান লকডাউনেও প্রকৌশলীরা স্বাভাবিক অবস্থার মতোই কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন করে বিভিন্ন ইউনিট স্থাপনের কাজও করতে হচ্ছে। প্রথম ধাপে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ কম হলেও দ্বিতীয় ধাপে তা বেড়েছে। আমরা দেখেছিÑ অর্ধশতাধিক প্রকৌশলী ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ৮ জন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ১৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী, ৯ জন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও ২ জন সহকারী প্রকৌশলী রয়েছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ করোনা পরীক্ষা করার পর নেগেটিভ ফলাফল এলে নতুন করে আক্রান্তের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে।’