‘বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে’ শাদের প্রেসিডেন্ট নিহত

মধ্য আফ্রিকার দেশ শাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস দেবি ‘সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে’ আহত হয়ে মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আজেম বেবমেনদাও আগৌনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সার্বভৌম জাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে যুদ্ধের ময়দানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’

ইদ্রিস দেবি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার ঘোষণা করা হয় সেই ভোটের ফল। তাতে ৭৯ শতাংশ ভোট পান তিনি। বেঁচে থাকলে তিনি ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় আসতেন। তবে তার বিরুদ্ধে দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের বেশিরভাগই নির্বাচন বর্জন করে।

মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর ওই মুখপাত্র বলেন, উত্তরাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৈন্যদের দেখতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস দেবি নিহত হন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ৬৮ বছর বয়সী ইদ্রিস দেবি ছিলেন সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আফ্রিকান নেতাদের অন্যতম। ১৯৯০ সালে এক বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।

দেবির মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ছেলে মাহামাত কাকার নাম ঘোষণা করেছে সামরিক কর্মকর্তাদের ট্রানজিশনাল কাউন্সিল। রাষ্ট্রীয় টিভি সম্প্রচারে একথা জানিয়েছেন মুখপাত্র আজেম বেবমেনদাও। তিনি বলেন, শাদের জনগণকে শান্তি, নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সব পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ট্রানজিশন। দেবির ছেলে ৩৭ বছর বয়সী চার-তারকা জেনারেল মাহামাতের নেতৃত্বে এই সামরিক কাউন্সিল আগামী ১৮ মাসের জন্য দেশ শাসন করবে।

বিবিসি জানাচ্ছে, এরই মধ্যে দেশটির সরকার ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সীমান্তও। এ ছাড়া ৩০০ বিদ্রোহীকে হত্যা ও ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। ৫ জন সেনা নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন এই ঘটনার পরে। 

ফ্রান্স এবং অন্য পশ্চিমা শক্তিগুলোর দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন দেবি। বিশেষ করে আফ্রিকায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট দেবি ছিলেন তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।

কিন্তু দেবি সরকারের তেলসম্পদ পরিচালনা নিয়ে শাদে অনেক দিন ধরেই অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। ২০১৮ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত নিজের ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করেছিলেন দেবি।