কক্সবাজার বিমানবন্দর

উদ্বোধনের অপেক্ষায় রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প। দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফা রানওয়ের সম্প্রসারণ প্রকল্পের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অপেক্ষায় ক্ষণগণনা চলছে। এরই মধ্যে গ্রাউন্ড ব্রেকিং কাজের সব প্রস্তুতি নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। চলমান লকডাউনের পরপরই বহুল প্রতীক্ষিত এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রার তোড়জোড় চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পৃথিবীর অন্যতম বিমানবন্দর নির্মাতা কোম্পানি চাংজিয়াং ইচাং ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো (সিওয়াইডব্লিউসিবি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন-জেভি কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ করছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনা মহামারীতে লকডাউন না থাকলে এতদিনে একটা সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ ঠিক করা যেত। এ প্রকল্পের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলেই উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট তারিখ চেয়ে একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। লকডাউনের পরপরই তারিখ চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছি।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের কোলে অপূর্ব নৈসর্গিক ভূ-বেষ্টনীতে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এরই মধ্যে শেষের পথে প্রথম দফার কাজ। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বিমানবন্দরের রানওয়েকে আরও শক্তিশালী করতে বাড়ানো হচ্ছে ৯ হাজার ফুট থেকে পৌনে ১১ হাজার ফুটে। মূলত এই রানওয়ের কাজ সম্প্রসারণের পরই এখানে ওঠানামা করতে পারবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুপরিসর এয়ারবাস এ-৩৮০-এর মতো উড়োজাহাজ। আগামী ৫০ বছরের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প।

বেবিচক জানিয়েছে, বর্তমানে এ বিমানবন্দরে দৈনিক যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে এবং সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ বিমানবন্দর। তবে অনুন্নত রানওয়ে ও অবকাঠামোর ফলে সব ধরনের বিমান চলাচলের জন্য ছিল অনুপযোগী। বর্তমান সরকারের গৃহীত নানামুখী প্রকল্পের ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দর একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপ পেতে চলেছে।

জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে চলতি বছর ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদন দেন। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে সুপরিসর বিমান চলাচল উপযোগী আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি গৃহীত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বড় উড়োজাহাজ কক্সবাজারে যাতায়াত করতে পারবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় বিশ্বের নামকরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি বেবিচক সদর দপ্তরে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চাংজিয়াং ইচাং ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো (সিওয়াইডব্লিউসিবি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন-জেভির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেবিচকের অনুমিত ব্যয়ের চেয়ে অন্তত ২১ শতাংশ কমে এই প্রকল্পের কাজ করবে চীনা দুই প্রতিষ্ঠান। দরপত্রে টিকে যাওয়া চীনের এ শীর্ষ কোম্পানিদ্বয়ের রয়েছে পেইচিং বিমানবন্দর নির্মাণের মতো অত্যাধুনিক কাজের অভিজ্ঞতা। যার ছোঁয়া থাকবে কক্সবাজারেও। এজন্য ব্যয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো।

বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক দেশ রূপান্তরকে জানান, কাজ তো সব গুছিয়ে আনা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের মহেশখালী চ্যানেলের দিকে রেক্লেমেশন প্রক্রিয়ায় আরও ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারিত হবে। তাছাড়া প্রকল্প কাজগুলোর অন্যান্য প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের জলাবদ্ধতা রক্ষাসহ সমুদ্রের জমি পুনরুদ্ধার, নমনীয় ফুটপাতসহ রানওয়ের সম্প্রসারণ, সমুদ্রের যথাযথ পদ্ধতির আলোক ব্যবস্থাসহ এজিএল সিস্টেম স্থাপন, নিকাশীর সুবিধা ইত্যাদি। বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুপরিসর বিমান তথা বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ পরিচালনায় সুবিধা হবে। ফলে এ বিমানবন্দর থেকে সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ট্যুরিস্টের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। ফলে পর্যটন খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বৃদ্ধি পাবে।