কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা দুটির মধ্যে একটি আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক। হিমছড়ি সম্দ্রুসৈকতে ৯ ও ১০ এপ্রিল সকালের দিকে হিমছড়ি বড় ঝরনার দক্ষিণের সম্দ্রুসৈকতে পরপর দুটি মৃত ও গলিত তিমি পানিতে ভেসে আসে। পরে তিমি দুটির নমুনা সংগ্রহের পর মাটিতে পুঁতে ফেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। দুই সপ্তাহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধারণা করা হচ্ছে, পুরুষ সঙ্গীর মৃত্যুর শোকে স্ত্রী তিমিটি আত্মহত্যা করেছে। অন্তত ১০-১৫ দিন মৃত অবস্থায় পানিতে ভাসার পর পচনশীল অবস্থায় সম্দ্রু চরে আটকা পড়ে।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘এই প্রজাতির তিমি আমাদের বঙ্গোপসাগরে রয়েছে; বিশেষ করে সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এসব তিমি চোখে পড়ে। হয়তো তিমিটি মারা যাওয়ার পর ভাসতে ভাসতে কক্সবাজার সৈকতের উপকূলে ভিড়েছে।’
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা জানিয়েছেন, ভেসে আসা বিশাল আকারের এই তিমি গলিতপ্রায়। ১৯৯১ উখিয়ার ইনানী সৈকতে, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে হিমছড়ি সৈকতে এভাবে ভেসে এসেছিল বিশালাকার তিমি।
উল্লেখ্য, ৯ ও ১০ এপ্রিল সকালের দিকে হিমছড়ি বড় ঝরনার দক্ষিণের সম্দ্রুসৈকতে পানিতে ভেসে বালিয়াড়িতে আটকে পড়ে দুটি মৃত তিমি। ভেসে আসা এ দুটি তিমির শরীরে পচন ধরেছিল এবং প্রায় গলিত। এর মধ্যে ৯ এপ্রিল সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি সৈকতে ভেসে আসে ১৫ টন ওজনের মৃত প্রথম তিমি। এটি লম্বায় ছিল ৪৪ ফুট, পেটের বেড় ২৬ ফুট। বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। এটি স্ত্রী তিমি। এই তিমির শরীর পচে মাথার অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। পরের দিন ১০ এপ্রিল সকালে একই সৈকতে ভেসে আসে ১০ টন ওজনের আরেকটি মৃত তিমি। এটি লম্বায় ৪৬ ফুট, পেটের বেড় ১৮ ফুট, ওজন প্রায় ১০ টন। এটি পুরুষ জাতের তিমি।