বিখ্যাত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন অভিজ্ঞতা

ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে এখন। কোয়ারেন্টাইনের অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে নতুন হলেও ইতিহাসেও এর অস্তিত্ব ছিল। শেক্সপিয়ার, নিউটন থেকে শুরু করে বিখ্যাত অনেক মানুষকেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

শেক্সপিয়ার

ইউরোপজুড়ে কয়েক বছর ধরে প্রাদুর্ভাব ছড়ানো ব্ল্যাক ডেথে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। সে সময়েও মৃত্যুভয়ে মানুষকে থাকতে হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে। বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে ছিল ভীতি। এ তালিকায় ছিলেন বিখ্যাত কবি ও নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারও। আজ যখন করোনা মহামারীতে ঘরে থাকতে থাকতে আমাদের মাঝে বিরক্তি কাজ করছে, সেখানে প্লেগের সময় বাড়িতে বসে শেক্সপিয়ার সময়কে কাজে লাগিয়েছিলেন অন্যভাবে। শেক্সপিয়ারের ৫১ বছর জীবনের সময়কালে বেশ কয়েকবার প্লেগ রোগ মহামারী আকার ধারণ করে। তার জন্ম ১৫৬৪ সালে। এ বছরই তার শহরে চার ভাগের এক ভাগ মানুষ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। এ মহামারী অনেক বছর ছিল। ১৫৬৪, ১৫৮১, ১৫৯২, ১৬০৩, ১৬০৪, ১৬০৬ এই বছরগুলোতে ব্রিটেনে প্লেগ মহামারী রূপ ধারণ করেছিল। ১৫৯২ সালে ব্রিটেনজুড়ে প্লেগের প্রকোপ শুরু হলে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি নাটকের থিয়েটার পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস তখন বন্ধ ছিল। এ সময় ইঁদুর থেকে প্লেগ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়াচ্ছে বলে জানানো হয়। এরপর ভয়ানকভাবে প্লেগ ছড়ায় ১৬০৩ সালের দিকে। মূলত এই বছর থেকে শুরু করে ১৬১৩ সাল পর্যন্ত এই দশ বছর শেক্সপিয়ারের লেখালেখির মূল সময় ছিল।

লন্ডনে যখন প্লেগ প্রাদুর্ভাব ছড়ায়, তখন শুরুর দিকে থিয়েটার বন্ধ করা হয়নি। এতে সেখানে কাজ করতে গিয়ে প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিলেন অনেক কর্মী। মৃত্যুর তালিকায় ছিলেন শেক্সপিয়ারের কিং মেন থিয়েটার ট্রুপের একজন অভিনেতা ও অংশীদার। মহামারী ছড়িয়ে পড়ার এক সপ্তাহ পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০-এর কোঠায়। এ সময় থিয়েটারসহ সব জনবহুল এলাকা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শহরবাসীরা রোগ থেকে বাঁচতে নিজ নিজ ঘরে বন্দি হয় অথবা শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্লেগের বিস্তার বাড়ায় থিয়েটার শিল্পে ধস নামে। এ সময়কেই কাজে লাগিয়েছিলেন শেক্সপিয়ার। গৃহবন্দি থেকে রচনা করেন কিং লিয়ার, ম্যাকবেথ-এর মতো বিখ্যাত রচনা। ঠিক কোন বছরে লিখেছিলেন তার নির্দিষ্ট সময় জানা না গেলেও কিং লিয়ার মঞ্চে প্রদর্শিত হয় ১৬০৬ সালের শেষ দিকে, আর এ থেকেই ধারণা করা হয় এর রচনাকাল। তার রচনায় প্লেগের করুণ সময়ের দৃশ্য ফুটে উঠেছে এভাবে ‘পরিত্যক্ত সব রাস্তা আর বন্ধ হয়ে যাওয়া দোকানপাট, কুকুরগুলো দৌড়ে বেড়াচ্ছে, নগর পরিষেবা দানকারীরা তিন ফুট লম্বা বোর্ড লাল রঙে এঁকে, সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে যাতে করে সবাই দূরত্ব রাখে, গির্জায় নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি বেজেই যাচ্ছে শোককৃত্যের আহ্বানে।’

স্যার আইজ্যাক নিউটন

শেক্সপিয়ারের কয়েক দশক পর আবারও প্লেগের আবির্ভাব ঘটে। আইজ্যাক নিউটন তখন ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন। ঘটনাটি ১৬৬৫ সালের, নিউটনের বয়স তখন ২৩। তখনো বুবোনিক প্লেগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তাই নিউটন বাধ্য হয়ে শহর ছেড়ে প্রায় ৬০ মাইল দূরে তার পারিবারিক এলাকায় ফিরে যান। তখন অবশ্য ই-মেইল বা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পড়ার সুযোগ হয়নি নিউটনের। তবে তিনি নিজ উদ্যোগেই সেই সময় নানা বিষয় নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করেন। এই তরুণ গণিতবিদ তখন নানা থিওরি নিয়ে কাজ করছিলেন। কোয়ারেন্টাইনের এ সময়েই তিনি আবিষ্কার করেছিলেন বর্ণালি। শুরুতে তিনি একটি পরীক্ষা করেন প্রিজমের সাহায্যে। আলোকে প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করতে দিয়ে রং নিয়ে নানা বিষয় পরীক্ষা করলেন। দেখলেন, সাদা আলো যখন প্রিজমের এক পৃষ্ঠ দিয়ে প্রবেশ করে, তখন সেটি সাদাই থাকে। কিন্তু কাচ মাধ্যম হয়ে প্রিজমের অপর তল দিয়ে যখন আলো বেরিয়ে আসে, তখন সেটি আর সাদা রঙের থাকে না, কয়েকটি ভিন্ন রঙের হয়ে যায়। প্রিজমের দ্বারা বিশ্লিষ্ট ঐ রঙের বিন্যাস রংধনুর রঙের বিন্যাসের মতো। এর সাহায্যেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সাদা রঙের আলো আসলে অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলোর মিশ্রণ। বিজ্ঞানীদের কাছে সাদা বলতে আলাদা করে কোনো রং নেই। সাদা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন কতগুলো রঙের সমষ্টি। শুধু প্রিজম নয়, এই কোয়ারেন্টাইনেই নিজের বাড়ির আপেল গাছের নিচে বসে আবিষ্কার করে ফেলছিলেন মহাকর্ষ শক্তির তত্ত্বটি। যদিও এই তত্ত্বের প্রতিষ্ঠা পেতে বেশ কিছু সময় লেগেছিল। এক কথায়, কোয়ারেন্টাইনকে ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছিলেন তরুণ নিউটন।

অ্যাপোলো ১১-এর নভোচারীরা

২০ শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেকখানি এগিয়ে যায় বিশ্ব। এ সময়ই মানুষের চাঁদে প্রথম পা রাখার ঘটনা ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। নভোচারীদের পৃথিবী থেকে চাঁদে যাওয়ার আগে জনগণের চোখের আড়ালে একটি ঘটনা ঘটে। নভোযান চালু হওয়ার আগে তাদের কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। পৃথিবী থেকে তারা কোনো জীবাণু নিয়ে যাচ্ছেন না বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ যাত্রাপথে অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে আরও ওষুধ দিতে হবে। যেটা বেশ ব্যয়বহুল। কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে ডিনারের কথা থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়।

বিষয়টি এ পর্যন্ত থাকলেও হয়তো চলত। বিপত্তিটা বাধে তিন নভোচারী পৃথিবীতে পা রাখার পর। ১৯৬৯ সালে পুরো পৃথিবী যখন বাজ অলড্রিন, নিল আর্মস্ট্রং ও মাইকেল কলিনসের কাছ থেকে চাঁদের অভিজ্ঞতা জানার জন্য অপেক্ষা করছে, ঠিক তখন নাসা তাদের ‘লকডাউনে’ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। নাসার ভয় ছিল, তাদের তিনজনের শরীরে চাঁদ থেকে মুন প্লেগের মতো কোনো জীবাণু আসতে পারে। তাদের একটি ছোট, ট্রান্সপোর্টেবল মেটাল বক্সে শুধু মোবাইলে যোগাযোগ করার সুযোগ দিয়ে ৮৮ ঘণ্টার জন্য লকডাউনে রাখা হয়। ৩৫ ফুটের এয়ারস্ট্রিম ট্রেলারে লাউঞ্জ, সিøপিং কোয়ার্টার, বাথরুম ও মাইক্রোওয়েভ রাখা ছিল। তাদের স্ত্রীরা ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ট্রেইলারের কাচের বাহির থেকে তাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পরে অবশ্য তাদের বিমানে করে হাস্টনে নিয়ে ট্রাকে করে জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের আরও কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়। কোনো ধরনের প্রেস কনফারেন্স ও রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার উপায় তাদের ছিল না। শুধু পাবলিক রিলেশনস অফিসারের কাছ থেকে যতটুকু জানা যেত ওটুকু তথ্যই সংবাদে ছাপা হতো। তাদের শরীরে চাঁদের কোনো মাইক্রো-অর্গানিজম না পাওয়া যাওয়ায় অবশেষে ১৩ আগস্ট তারা কোয়ারেন্টাইন থেকে মুক্তি পান। তাদের নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্যারেডের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়।

ম্যারি ম্যালন

১৯০৬ সালে চার্লস হ্যানরি ওয়ারেন নামে নিউ ইয়র্কের একজন সম্ভ্রান্ত ব্যাংকার তার পরিবারের দশ সদস্যকে নিয়ে একটি বাড়ি ভাড়া করেন। ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই পরিবারের দশজনের মধ্যে ছয়জনই টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। সেই এলাকায় এর আগে কখনোই টাইফয়েডে কেউ আক্রান্ত হয়নি। এই রোগটি কীভাবে ছড়ালো সেটি বের করতে ওয়ারেন তখন জর্জ সোপার নামের একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়োগ দিলেন। এই বাড়িতে কাজ করতেন ম্যারি ম্যালন। তিনি দারুণ মজার খাবার বানাতেন। তার মাধ্যমে টাইফয়েড ছড়াতে পারে এমনটি কারও ধারণাতেই ছিল না।

জর্জ এসে পুরো বাড়ি খুঁজে টাইফয়েড কীভাবে ছড়াচ্ছে সেই রহস্য উদঘাটনে নামলেন। পুরো বাড়িটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত খুব ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। সম্ভাব্য প্রতিটি জিনিস এবং ঘরের কোনা বেশ ভালোভাবেই পরীক্ষা করা হলো। শুধুমাত্র বাকি ছিল রাঁধুনিকে নিরীক্ষা করা। কিন্তু এই অসুস্থতা ছড়ানোর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তিনি কাজ ছেড়ে চলে যান। ম্যারির সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জর্জ জানতে পারলেন ম্যারি খুব ঘন ঘন চাকরি বদল করেন। এর মূল কারণ তিনি বহন করে চলেছেন টাইফয়েড বোমা। তার বদল করা আগের সাতটি চাকরিতেই কেউ না কেউ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে। জর্জ সোপার পরে ম্যালনের কাজের জায়গায় কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে নিয়ে যান তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য। নিউ ইয়র্কে তাকে নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ডের একটি ক্লিনিকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। অবশেষে ইউজিন এইচ পোর্টার, নিউ ইয়র্ক স্টেট কমিশনার অফ হেলথ, ১৯১০ সালে এই শর্তে মুক্তি দেন যে, তিনি আর রান্নার কোনো কাজ করতে পারবেন না। কিছুদিনের জন্য ম্যারি একটি লন্ড্রিতে কাজ করেন। কিন্তু সেখানে বেতন অনেক কম ছিল। তাই তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ম্যারি ব্রাউন রাখেন। আর সøাউন হাসপাতালে মেয়েদের জন্য খাবার রান্না করতে থাকেন। ১৯১৫ সালে, সেই হাসপাতালে ২২ জন চিকিৎসক এবং নার্স টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং দুজন মারা যান। তখন ম্যারি ম্যালনের কথা আবার সবাই জানতে পারেন।

দ্বিতীয়বারের মতো তাকে নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ড হসপিটালে গৃহবন্দি হিসেবে পাঠানো হয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দি ছিলেন। কাগজে-কলমে আমেরিকার সরকারি হিসাব মতে তিনজন লোক মারা গিয়েছিল তার জন্য যদিও অন্য সূত্রমতে তার থেকে ছড়ানো টাইফয়েডে মারা গিয়েছিল পঞ্চাশেরও অধিক মানুষ। নিজে টাইফয়েডের বাহক হলেও তার মৃত্যুর কারণ ছিল মূলত নিউমোনিয়া। এমন কুখ্যাত কর্মকা-ের জন্য তার নাম টাইফয়েড ম্যারি নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৩৮ সালের ১১ নভেম্বর মারা যান ম্যারি। তখন তার লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় যেন সেখান থেকে জীবাণু না ছড়াতে পারে।

এডভার্ড মাংক

‘দ্য স্ক্রিম’ নামে বিখ্যাত ভয়ংকর ও পরাবাস্তব চিত্রকর্মটি এঁকেছেন এডভার্ড মাংক। শুধু এটাই নয়, তার আঁকা অনেক ছবিতেই বিচ্ছিন্নতা ও উদ্বেগ মেশানো। তার ছোটবেলার দুঃসহ স্মৃতিই সম্ভবত ছবিগুলোতে বহিঃপ্রকাশ পেয়েছে। কারণ এডভার্ড মাংকের মা ও বোন টিউবারকোলোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। অন্য একজন বোনের মানসিক সমস্যা ছিল। সবকিছু মিলিয়ে মাংক নিজে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলেন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় নিজেকে সবার থেকে আইসোলেটেড করে রাখেন। জীবনের দুশ্চিন্তার ছাপ অন্যভাবে প্রকাশ করতে পারতেন না এডভার্ড। তাই ছবিতেই মন খারাপ, বিষণœতা, চিৎকার ধরনের মনের ভাবগুলো প্রকাশ পেত। তার বেশিরভাগ শিল্পকর্মগুলো নিজের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণা এবং অন্য লোকদের আশপাশে থাকার এক ধরনের অস্পষ্ট ভয়কে কেন্দ্র করে। অল্প সময়ের মধ্যে তার ছবিগুলো আলাদাভাবে দর্শকের নজর কাড়ে। ব্যক্তিগতভাবে একাকী জীবন যাপন করলেও এই পরিচয়ই তাকে পরিচিত করে তোলে।

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু প্রকোপ ছড়ালে বৈশ্বিক মহামারীর দুরবস্থা নিজের চোখে দেখেছেন এডভার্ড। তিনি নিজেও এতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন। তাই খুব বেশিদিন তাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়নি। গৃহবন্দি থাকাকালীন তিনি নিজের দুটো ছবি এঁকেছিলেন। ‘সেলফ পোর্ট্রইেট উইথ দ্য স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে ছবিতে দেখা যায় এডভার্ড ড্রেসিং গাউন পরে বিধ্বস্ত চেহারায় একা বসে আছেন। অন্য ছবিটি তার সুস্থ হওয়ার পর। ‘সেলফ পোর্ট্রইেট আফটার দ্য স্প্যানিশ ফ্লু’ নামের এই ছবিতে দেখা যায় তিনি ভালো পোশাক পরে প্রফুল্ল মনে বসে আছেন। পরে এই ছবিগুলো খুব বিখ্যাত হয়।