পাল্লেকেলে টেস্টের দু’দিন শেষ। আলোর স্বল্পতা দ্বিতীয় দিনের ২৫ ওভার খেলা হতে দেয়নি। দিনের শুরুতে ১৫, শেষে ১৫ মিনিট খেলিয়ে তিন শেষে ক্ষতিটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন আম্পায়াররা। কিন্তু টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশের চেষ্টা কতদূর। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন রান তোলায় ধীরগতি বাংলাদেশকে এই টেস্টে একটু ব্যাকফুটে রাখছে। শ্রীলঙ্কাও এই ব্যাটিং উইকেটে ধীরস্থির এগোলে ম্যাচের ফল আনাই কঠিন হবে। বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তা ভালোভাবেই জানেন। তাই ম্যাচ জয়ের পথে প্রাথমিক পদক্ষেপ জানালেনÑ ৫২০ রানের বেশি তোলা। তার মানে আরও ৫০ রান।
এই টেস্টে বাংলাদেশের জন্য কঠিন প্রশ্ন হয়ে উঠছে ২০ উইকেট নেওয়ার সম্ভাব্যতা। ৫৫০ রান করেও যদি ইনিংস ঘোষণা করা হয়, এ উইকেটে সেটা সম্ভব কী? গতকাল সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান পেসার বিশ্ব ফার্নান্দো যেমনটা জানালেন তাতে বাংলাদেশের জন্য আশার কিছু নেই। ‘সবুজ পিচ দেখে আমরা ভেবেছিলাম এখানে সুইং হবে, পেস বোলিংটা ধরবে। কিন্তু আমরা আশাহত। পিচ সে রকম কোনো আচরণই করেনি। আমরা কোনো সুবিধাই পাইনি। উল্টো এই পিচে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো ব্যাট করেছে। তবে এটা ঠিক আজ আমরা রান না দেওয়ার পরিকল্পনায় সফল হয়েছি’ বলছিলেন তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসানের উইকেটশিকারি। জিততে হলে বাংলাদেশের এখন তাহলে কী করা উচিত। লঙ্কানদের দু’বার অলআউট করা ছাড়া তো উপায় নেই। উইকেটে রিভার্স সুইং কাজ করছে না। তবুও ডমিঙ্গো ভরসা রাখছেন উইকেটেই। সেই সঙ্গে লঙ্কানদের রান আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা কাজে লাগাতে চান। দু’দিনে উইকেটের পপিং ক্রিজের সামনে তৈরি হওয়া রাফ জায়গাটায় তাকিয়ে আছেন কোচÑ ‘দেখুন, এখানে রিভার্স সুইং কাজ করবে না। এখানে আমাদের শ্রীলঙ্কার মতো রান চেক দিতে হবে। এটা এমন পিচ নয় যে ৪০-৫০ ওভারেই ওদের অলআউট করে দেবেন। সাফল্যের জন্য এখানে খুবই ধৈর্য রাখতে হবে। এখানে ২০ উইকেট নেওয়া কঠিন। তাই বোলিংয়ে খুবই শৃঙ্খল হতে হবে। আশা করি আমাদের স্পিনাররা ভালো করবে। কারণ, এখন উইকেটে কিছু রাফ জায়গা তৈরি হয়েছে। সেখানে বল ফেলে আমরা বাড়তি স্পিন আশা করতে পারি।’
উইকেটে মুশফিক ৪৩ ও লিটন ২৫ রানে অপরাজিত। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজও চালিয়ে খেলতে পারেন। স্বাগতিকদের ৫৫০ রান চাপিয়ে দিলেও তাদের ব্যাটসম্যানদের কীভাবে থামাবেন, এমন প্রশ্নে ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আজ যত দ্রুত রান তোলা যায়। ৫২০-এর ওপর হলেই ওদের চাপে ফেলা যাবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে শ্রীলঙ্কার খুব ভালো কিছু ব্যাটসম্যান আছে। মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস আছে যে প্রায় সময়ই দলের বিপদে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু আমি ভাবছি আমাদের বোলিং অ্যাটাক নিয়ে। তিন পেসার এবং যে দুজন স্পিনার আমাদের আছে তারা সবাই পরীক্ষিত। আমার বোলিং আক্রমণে যথেষ্ট বৈচিত্র্য আছে। আমি ওদের কাল মাঠে দেখার অপেক্ষায় আছি। ওরাও অপেক্ষায়, কারণ অনুশীলন নয়, ওরা ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের চ্যালেঞ্জ দিতে চায়।’
বিদেশের মাটিতে মুমিনুলের ৩০৪ বলে ১২৭ রানের ইনিংসটি মনে ধরেছে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের। জিম্বাবুয়ে, উইন্ডিজের পর টানা তৃতীয় সিরিজে সেঞ্চুরি পাওয়া মুমিনুল যোগ্য অধিনায়ক হিসেবেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেনÑ ‘সে খুবই শান্ত, নিজের খেলাটাও ভালো বোঝে। এই আচরণটাই ওকে যোগ্য টেস্ট ব্যাটসম্যান হতে সাহায্য করেছে। তাছাড়া অনুশীলনে সে নিজের প্রতি অতি যতœশীল। সে তার শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে জানে। সবাই যাই বলুক না কেন, আমার মতে সে অসাধারণ টেস্ট ব্যাটসম্যান। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে যে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। উইন্ডিজের পর এখানেও সে সেঞ্চুরি করল। ১১ টেস্ট সেঞ্চুরি কিন্তু সামান্য অর্জন নয়, বিশেষ।’