চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

সেই ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুরকে বরিশালে বদলি

ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মো. মামুনুর রশীদকে বরিশাল বিভাগে বদলি করা হয়েছে। ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ পঞ্চম দিনে গত রবিবার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে এক চিকিৎসকের পরিচয়পত্র দেখা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চিকিৎসকের বাগ্বিতণ্ডার সময় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্বরত ছিলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মামুনুরের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মো. মামুনুর রশীদকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল ‘লকডাউনের’ পঞ্চম দিনে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত, ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ও পুলিশ কর্মকর্তা। চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা ডা. জেনির কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান। সঙ্গে আইডি কার্ড আনেননি বলে জানান ওই চিকিৎসক। এরপর তার কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয়। তখন চিকিৎসক জেনি জানতে চান, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে? এরপর জেনি তার গাড়িতে বিএসএমএমইউর স্টিকার ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া তার লিখিত পাস দেখান। এরপরও পুলিশ তার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চায়। পরে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ওই ঘটনার পর চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়। চিকিৎসকের দাবি, তাকে ইচ্ছা করে হয়রানি করা হয়েছে। তার গাড়িতে লকডাউনের সময় হাসপাতালে কাজ করার আদেশনামা ছিল, পরনে অ্যাপ্রন ছিল এবং গাড়িতে হাসপাতালের স্টিকার লাগানো ছিল। আর পুলিশের দাবি, চিকিৎসক জেনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে গালি দিয়েছেন। নিজ মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশ লঙ্ঘন এবং ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয় পুলিশের বিবৃতিতে। আর বিএমএ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসককে ‘হেনস্তায়’ জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানায়। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংবাদ ব্রিফিংয়ে চিকিৎসকদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়ে চেকপোস্টে ‘চাহিবামাত্র তা প্রদর্শনেরও’ অনুরোধ জানিয়েছে।