মিরপুরে আ.লীগ নেত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় ভাড়া বাসায় উমামা বেগম কনক (৪০) নামে আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

গত শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস ৭৪৩ নম্বর বাসার ৩/ডি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই বাসা থেকেই পুলিশ কনকের স্বামী ওমর ফারুককে (৪৫) গ্রেপ্তার করে।

কনক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। তার বাড়ি নরসিংদী সদরে। এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

নিহতের বড় বোন রুমা আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কনকের স্বামী ওমর ফারুক দীর্ঘদিন জাপানে ছিল। দেশে এসে কোনো কিছু করত না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াবিবাদ হতো। এরই জের ধরে শুক্রবার রাতে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ফারুক রান্নাঘর থেকে বঁটি এনে কনককে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ফারুক বাসা থেকে বের হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে রাতেই আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (গতকাল শনিবার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। অবশ্য কনককে হাসপাতালে নেওয়ার পর ফারুক বাসায় আসে। বাসা থেকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বলে পুলিশ আমাদের জানিয়েছে।’

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. শাহ কামাল বলেন, ‘অভিযুক্ত ওমর ফারুককে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে দাম্পত্যকলহের জেরে হত্যার কথা জানিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের ভাতিজা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কাল (আজ) ওমর ফারুককে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।’

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের সন্তানদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তারাও বাবাকে দায়ী করেছেন।

এদিকে কনকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এক বিবৃতিতে তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।