অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা শুরু করেছে ব্র্যাক। গতকাল শনিবার প্রাথমিকভাবে ঢাকায় ১৫টি ও চট্টগ্রামে একটি বুথে শুরু হয়েছে পরীক্ষা। এক দিনে ১০৬টি নমুনা পরীক্ষায় ১২ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নেগেটিভ রিপোর্টগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে আরটি-পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হবে।
ব্র্যাকের তথ্যানুযায়ী, গতকাল ১৬টি বুথের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টেস্ট হয় মগবাজার আসাদুজ্জামান খান কামাল কমিউনিটি সেন্টার বুথে ২৩টি। এর মধ্যে ৩ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ ছাড়া মিরপুর বুথে ২১ জন টেস্ট করায়। এখানেও ৩ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে।
এ ছাড়া উত্তরা আধুনিক মেডিকেল বুথে পরীক্ষা করে ৬ জনের মধ্যে ২ জন, পল্টন কমিউনিটি সেন্টার বুথে ৮ জনের মধ্যে ১ জন, বাসাবো বুথে ৮ জন, ওয়ারী বুথে ৭ জন, উত্তরা হাইস্কুল বুথে ৪ জনের মধ্যে ১ জন, মিরপুর ১ নম্বর বুথে ৬ জনের মধ্যে ১ জন, মোহাম্মদপুর বুথে ৫ জন, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ বুথে ৬ জন, চট্টগ্রাম বুথে ৬ জনের মধ্যে ১ জন, বনানী বুথে ৬ জন। বাকি তিনটি বুথে কোনো পরীক্ষা হয়নি।
ব্র্যাক জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চলছে তাদের এ কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে ঢাকায় সর্বমোট ৩২টি এবং চট্টগ্রামে ৪টি বুথের মাধ্যমে অধিক সংক্রমণ এলাকায় কার্যক্রমটি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বুথের মাধ্যমে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে আসছে ব্র্যাক। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হলো র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট।
বাংলাদেশে বর্তমানে আরটি-পিসিআর টেস্ট পদ্ধতিতে করোনাভাইরাসের বেশিরভাগ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ফল পেতে অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু অ্যান্টিজেন টেস্টে নমুনা সংগ্রহের পর অল্প সময়েই ফলাফল জানা যায়। এই পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগে। যা চলমান সরকারের করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করছে ব্র্যাক।
ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক মোর্শেদা চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের আলাদা করে আইসোলেশনে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমি আশা করছি, র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে আসা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য একটি ভূমিকা পালন করবে, যাতে করে খুব দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা দেওয়া যাবে।