ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা কিছুটা শক্তিশালী এখন। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় ১ রুপির বিনিময় মূল্য বা দর ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ টাকা ১২ পয়সা।
অথচ এপ্রিল মাসের শুরুতে ভারতীয় রুপির দর ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ে ভারতীয় রুপির দর কমেছে ৩ পয়সা।
অবশ্য গত বছর থেকে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। গত বছরের মার্চের শেষ দিকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগের দিন থেকেই ভারতীয় রুপির দর ১ টাকা ১১ পয়সায় নেমে আসে। রুপির দরের এই নিম্নমুখী ধারা গত বছরের জুন পর্যন্ত ছিল।
তবে গত বছরের জুলাইয়ে শুরু থেকে চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ভারতীয় রুপির দর একটু একটু করে বাড়তে থাকে। গত মার্চে রুপির দর বেড়ে ১ টাকা ১৭ পয়সা পর্যন্ত ওঠে। তবে এপ্রিলের শুরুতে রুপির দর ১ টাকা ১৫ পয়সায় নামে। তবে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর সরকার একের পর এক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করলে টাকার বিপরীতে রুপির দর কমতে শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল ভারতীয় রুপির দর কমে ১ টাকা ১৪ পয়সা হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে রুপির দর কমে ১ টাকা ১২ পয়সায় নেমে আসে।
করোনা মহামারীর মধ্যে দেশের অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো থাকায় বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমে যাওয়া, গড় আয়ু বৃদ্ধি, স্যানিটাইজেশন, ক্ষুধা সূচক, নিরাপদ পানির ব্যবহার, নারীর অংশগ্রহণসহ সামাজিক অনেক সূচকে বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় এগিয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসে।
ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটলে রুপিকে টপকে যাবে টাকা বলে আশাও প্রকাশ করেন গবেষকরা। এ প্রসঙ্গে গত বছর পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জানিয়েছিলেন, তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কৌশল রয়েছে। কোনো দুর্যোগ না ঘটলে টাকার মান বেড়ে যাবে ভারতের রুপির চেয়ে।
গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক পূর্বাভাসে জানা যায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে। ওই পূর্বাভাসের পর ভারতের অনেক গণমাধ্যম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে সংবাদ ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে।
আইএমএফের ওই প্রতিবেদনে (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক) বলা হয়, ২০২১ সালের মার্চে ভারতের অর্থবছর শেষে মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন দাঁড়াবে ১ হাজার ৮৭৭ ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থবছর শেষ হবে জুনে; মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন দাঁড়াবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলারে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মার্চ শেষে ভারতের মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার রুপি বা ১ হাজার ৬৯৪ ডলার। অর্থাৎ আইএমএফের পূর্বাভাসের চেয়েও জাতীয় মাথাপিছু উৎপাদন কমেছে ভারতে।
গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির বেশ কয়েকবার পতন ঘটে। গত ১০ এপ্রিল ভারতে ডলারের দর বেড়ে ৭৫ রুপি ছাড়িয়ে যায়। অথচ গত ১৪ মার্চ এক ডলার কিনতে ৭২.৫ রুপি ব্যয় করতে হয়েছে ভারতকে।
অন্যদিকে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ডলারের দর এক রকম স্থির রয়েছে। বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশকে ৮৪.৮০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। গত ৫ এপ্রিল বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার।