ভারতের সঙ্গে কার্যত সীমান্ত চালু নেই : তথ্যমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভারতের সঙ্গে শুধু পণ্য পরিবহন চালু রয়েছে, কার্যত সীমান্ত চালু নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভারতে যেতে পারছেন না, আবার কেউ আসতেও পারছেন না। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত কার্যত যেভাবে চালু থাকে, সেভাবে চালু নেই।’ গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জরুরি বৈঠক শেষে এসব কথা জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে পণ্য পরিবহন চালু আছে। মির্জা ফখরুল কি পণ্য পরিবহনও বন্ধ করে দিতে বলেছেন, যাতে বাংলাদেশে পণ্যের সংকট পড়ে। তিনি বুদ্ধিমান মানুষ, তিনি বুদ্ধি করেই বলেছেন। যাতে দেশে একটি সংকট তৈরি হয়। কার্যত সীমান্ত চালু নেই, শুধু পণ্য পরিবহন চালু আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার লকডাউন দেওয়ার পর বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে, লকডাউন না দেওয়ার জন্য। দোকান খোলার জন্যও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সরকারকে তো জীবন-জীবিকা দুটোই রক্ষা করতে হবে। এ দুটো রক্ষার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। বিশ^ব্যাপী এটি প্রশংসিত হয়েছে। সরকার প্রথম দফা যখন লকডাউন দেয়, তখনো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তখন নানা আলোচনা-সমালোচনা, বিশেষজ্ঞদের মত-অভিমত আমরা দেখেছি। বাস্তবতা হচ্ছে প্রথম দফা করোনা মহামারীর মধ্যে জীবন ও জীবিকা রক্ষাকে সমন্বয় করে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করেছে। সে কারণে বাংলাদেশ প্রথম দফা মহামারীর ঢেউ যেমন সফলভাবে অনেক দেশের তুলনায় মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে, একই সঙ্গে সরকার সক্ষম হয়েছে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে।’

পৃথিবীর করোনামুক্তি কামনা করে তথমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন লকডাউন চলছে, সরকারি ছুটিতে মন্ত্রণালয়গুলো বন্ধ, এর মধ্যেই আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কীভাবে সাংবাদিকদের সহায়তা করতে পারি, সে জন্যই আজকে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় আপাতত ২ হাজার সাংবাদিককে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে এককালীন সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এই অর্থবছরে কল্যাণ ট্রাস্টের নিয়মিত সহায়তার আওতায় আরও প্রায় দুই শতাধিক সাংবাদিককে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ ফিজনূর রহমান, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. গোলাম মোস্তফা, ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ প্রমুখ।