পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা ও লোহালিয়া নদী লবণপানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। জোয়ারে হু হু করে খাল-বিল, পুকুর-ডোবায় ঢুকছে লোনা পানি। গত দুই-তিন সপ্তাহ যাবৎ নদী, খালে লোনা পানি ঢোকায় এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। এ ছাড়া ফসল ফলানো নিয়ে কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহীদুল হাসান শাহীন বলেন, উপজেলার পায়রা, লোহালিয়া ও পাতাবুনিয়া নদী এবং অভ্যন্তরীণ সব খাল-বিলের পানিতে লবণাক্ততার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পানিবাহিত অন্যান্য রোগও বেড়েছে।
তিনি জানান, গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি ছিল ৭৪ জন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের লোনা পানি উপকূলের নদী-খাল-বিলে চলে এসেছে। অনাবৃষ্টির কারণে পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়েছে; যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ফসলের ক্ষতিসহ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তবে বৃষ্টি শুরু হলে লবণাক্ততা কমে যাবে। যদি লবণাক্ততা দুই-তিন মাস বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হয় তাহলে কৃষি, জলজ প্রাণী, মিঠাপানির মাছের প্রজননে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া অভাব দেখা দিতে পারে সুপেয় পানির।
উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম মিয়া বলেন, পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় মিঠাপানির মাছ কমে যাবে। মিঠাপানির মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রজননে প্রভাব পড়বে। লবণপানির প্রভাবে ফসলের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।