পৌরসভার আবর্জনা বনে: সচিব-ডিসিসহ ১২ জনকে আইনি নোটিশ

বন বিভাগের আপত্তির মুখে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সংরক্ষিত বন বর্ষিজোড়া ইকো পার্কে ময়লা ফেলছে মৌলভীবাজার পৌরসভা। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয় ।

এরপর সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

এই ঘটনায় ভূমি, স্থানীয় সরকার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ৩ সচিবসহ ছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন সংরক্ষক, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, সিলেট, সদর দপ্তর- বর্ষিজোড়া, মৌলভীবাজার, মেয়র মৌলভীবাজার পৌরসভা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,সদর উপজেলা ও সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর,মৌলভীবাজারসহ মোট ১২ জনকে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন বেলার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর।

তিনি সোমবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ১২ জনের কাছে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৪ এপ্রিল থেকে শহরের ময়লা আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার কারণে বনের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যা বন, বন্যপ্রাণীসহ পশুপাখি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়লা-আবর্জনার জন্য পরিবেশ দূষিত হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থান স্টেডিয়ামে আসা দর্শনার্থীসহ বর্শীজোড়া ইকো পার্কে আগত পর্যটকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বন বিভাগের মালিকানাধীন উক্ত ইকো পার্কের (খতিয়ান নং ৩) ৪ নং দাগের ২০১ একরের মধ্যে প্রায় ১(এক) একর জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

বন বিভাগের লিখিত আপত্তি সত্ত্বেও  বনের জায়গায় বেআইনিভাবে ময়লা আবর্জনা  ফেলে রাখা এক ধরনের জবর-দখলের শামিল।

বেলার নোটিশে আরও উল্লেখ রয়েছে, সকল প্রকার ময়লা আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করে বর্জ্য ডাম্পিং কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, টিলা কাটা  বন্ধ করতে হবে ও কাটা অংশে দেশীয় প্রজাতি বৃক্ষ দ্বারা বনায়ন করতে হবে এবং উক্ত কাজের জন্য ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানাচ্ছে। 

নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, গত আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিভাগীয় বনকর্মকর্তা ময়লা ফেলার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। নোটিশের বিষয়টি শুনেছি। নোটিশ পড়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেলা সিলেটের সমন্বয়ক শাহ সাহেদা দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা ১২ জনকে নোটিশ পাঠিয়েছি এর আগে আমরা সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। নোটিশ পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, আমরা প্রথম থেকেই মৌখিক এবং লিখিতভাবে ময়লা ফেলার ব্যাপারে আপত্তি দিয়েছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। আমরা আপত্তি দিলেও পৌরসভা ময়লা ফেলা বন্ধ করেনি ।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে সংরক্ষিত বন বর্ষিজোড়া ইকো পার্কে পৌরসভার ময়লা ফেলছে পৌরসভা এবং বনের সে অংশে ময়লা নিয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তাও তৈরি করা হয়ছে। শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানায় বন বিভাগ এবং পরিবেশবাদীরা ।

তবে এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পরিত্যক্ত জমি থাকায় সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। তাদের ডাম্পিং স্টেশনে কাজ চলছে কাজ হয়ে গেলে ময়লা ফেলার কোনো অসুবিধা হবে না।