সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সভাপতি

ধনীরা বিদেশে গিয়ে দামি গাড়ি কেনেন

আমাদের দেশে ৮০০ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। তাই আমাদের পয়সাওয়ালারা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর গিয়ে দামি গাড়ি কেনেন। পুরনো বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক গতকাল রিকন্ডিশন্ড ও নতুন গাড়ির শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি বিষয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, শুল্ক ও কর কমানো হলে দেশে দামি গাড়ি বিক্রি বাড়বে। মধ্যম আয়ের মানুষও গাড়ি কিনতে পারবেন। এতে দেশে গাড়ির বাজার বড় হবে, রাজস্ব আয়ও বাড়বে। দেশে নতুন গাড়ির শিল্প বিকাশে সরকার ‘অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২০’ করছে। এটিকে স্বাগত জানালেও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন বারভিডার সভাপতি। তিনি বলেন, শুল্ক সুবিধা নিয়ে যেন ক্রু ডাইভিং শিল্প না হয়।

নতুন ও পুরনো গাড়ির শুল্ক-কর বৈষম্যের কারণে কয়েক বছর ধরেই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। তবে চার দশক ধরে গড়ে ওঠা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির খাতে লাখখানেক কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ব্যবসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নতুন গাড়ির শিল্প স্থাপনের বাস্তবতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান আবদুল হক। জাইকার একটি গবেষণা তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজার এক লাখ ইউনিট হলে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ১০ থেকে ২০ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি হয়। স্থানীয় উৎপাদন ও রপ্তানির আগে দেশের গাড়ির বাজার সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ও সহসভাপতি মোহা. সাইফুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য আবু হোসেন ভূঁইয়া, মো. ইউনুছ আলী প্রমুখ।