ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস ক্রিকেটের এই চিরন্তন সত্য কত দলের জন্যই তো সত্যি হয়ে এসেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই ক্যাচ মিস বাংলাদেশকে ভোগাচ্ছে। তা থেকে শিক্ষা নিতে পারছেন কই বাংলাদেশ ফিল্ডাররা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনই লঙ্কান ওপেনার দিমুথ করুনারতেœর ক্যাচ মিস করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৮ রানে জীবন পাওয়া করুনারতেœ সেঞ্চুরি করেছেন। ক্লান্তিতে ভরা প্রথম দিনে সুযোগ কাজে লাগালে দিনটি বাংলাদেশের জন্য ভিন্নও হতে পারত। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা ব্যাটিং কোচ জন লুইসের কাছে ব্যাপারটি ভিন্ন। বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সমালোচনা করা সহজ।
এমনিতে গরম তার ওপর বোলারদের দিক থেকে মুখ ফেরানো উইকেট। এমন উইকেটে আউটের সুযোগ তৈরি করাই কঠিন বললেন লুইস, ‘সমালোচনা করা খুব সহজ। আজ কিন্তু খুব একটা সুযোগ তৈরি হয়নি। এমন উইকেটে বা পরিস্থিতিতে সুযোগ তৈরি করাই কঠিন। এখন আমাদের উচিত যতটা সুযোগ আসে তা কাজে লাগানো। দুই টেস্টেই এক-দুটি সুযোগ মিস হয়েছে। এগুলো কিন্তু আমাদের মনোসংযোগে ব্যাঘাত, অনুশীলনের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণ নয়। ফিল্ডারদের জন্য আমাদের মানবিক হতে হবে (মানুষ মাত্র ভুল)। মানবিক দিক থেকেই ওরা মিস করেছে।’
প্রথম দিনের অবস্থা দেখে মনেই হচ্ছে না দ্বিতীয় দিন পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন আসবে। তাই আরও একটি কঠিন দিনের জন্য সবাইকে তৈরি থাকতে বললেন লুইস। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা এই উইকেটে যেভাবে ব্যাট করেছে তা থেকে শিক্ষা নিতে বললেন তিনি। উইকেটের আচরণের কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে ব্যাটিং কোচের ধারণা, ‘দেখুন প্রথম দিন দেখে মনে হচ্ছে প্রথম টেস্টের প্রতিচ্ছবি দেখছি। এই পিচটা একটু ভালো তবুও দ্রুত পরিবর্তন দেখছি না। লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা পরিস্থিতি ও উইকেট বুঝে খেলেছে, বলের মেরিট অনুযায়ী খেলেছে। মনে হচ্ছে শ্রীলঙ্কা আরেকটি বড় স্কোর পেতে যাচ্ছে। আমাদের কালও দুটি সেশন অন্তত মাঠে থাকতে হবে। তবে আমাদের ওদের কাছ থেকে শেখার আছে।’
জীবনে এই প্রথম শ্রীলঙ্কায় এসেছেন লুইস। সব সময় শুনেছেন লঙ্কায় স্পিন পিচ হয়। এখন দেখছেন পুরো ব্যাটিং উইকেট, যা ইংলিশ লুইসের জন্য অপ্রত্যাশিত। তবুও দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন দেখেই এই টেস্টের উইকেট বিচার করতে নারাজ। তার বিশ্বাস এই টেস্টের পিচ সময়ের সঙ্গে ভাঙবে। কঠিন এই পিচের জন্য শিষ্যদের প্রতি সমবেদনাও জানালেন, ‘বোলারদের জন্য আমার সত্যি খারাপ লাগছে। বিশ্বের যেকোনো ভেন্যুতেই যান পিচ যদি এমন হয় তাহলে বোলারদের কাজ খুবই কঠিন। আমাদের বোলাররা, বিশেষ করে পেসাররা কিন্তু টেস্ট আঙ্গিনায় নতুন। তাদের জন্য কাজটা আরও কঠিন। তাসকিন ৭ টেস্ট খেলছে, শরিফুল তো প্রথম টেস্ট খেলছে। তবুও ওরা যেভাবে বল করেছে তাতে আমরা সবাই খুশি। এটা ইংলিশ কন্ডিশন হলে ওরা প্রাপ্য পুরস্কার পেত। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমরা ৫ বোলার নিয়ে খেলছি। এতে ৫ জনই একটু বিরতি পাচ্ছে। আমি বলব এই পিচে এটা সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।’
উইকেট নিয়ে কোনো সমালোচনা নেই করুনারতেœর। বরং আরও একটি বড় রানের দিকে এগোতে থাকায় খুশি তিনি। সন্তুষ্টি নিজের ব্যাট রান ও সতীর্থ থিরিমানের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটি ভালোই ছুটছে বলে। জানালেন ৬০০ রানের কথা চিন্তা করছেন। যেন বোলাররা ভালো অবস্থান পান। ‘দেখুন রান পাওয়া সব সময়ই আনন্দের। আমার মনে হয় ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা পার করছি। উইন্ডিজ সফরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ভুলগুলো নিয়ে কোচের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম, কী করতে হবে, কী করব না এসব। এই সিরিজে তার ফল পাচ্ছি। থিরিমানের সঙ্গে আমার জুটিটা ভালো হচ্ছে। সে গত কয়েক ইনিংস ধরেই ৬০-৭০ করছিল। এবার সেঞ্চুরি পেল। চাইব সে আরও বড় ইনিংস খেলুক। উইকেটে এখন পর্যন্ত কোনো বৈচিত্র্য দেখছি না, তবে ম্যাচের সঙ্গে উন্নতি হতে পারে। আমরা ৬০০ রানের কথা চিন্তা করছি। এতে বোলাররা হাতে ভালো সময় পাবে।’