আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিনও বাংলাদেশ সময়মতো সংগ্রহ করবে। আপনারা শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন, তিনি তার দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজের টিকাও সময়মতো সংগ্রহ করতে পারবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি তার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বাসভবন থেকে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভ্যাকসিন সংগ্রহে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। এখানে ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল। কিন্তু তারা এখন নিজেরাই সংকটে আছে। তারা এখন সরবরাহ করতে পারছে না। তাই বলে আমরা বসে থাকব এটা এমন নয়। আমরা এখন বিকল্প দেশ থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছি। রাশিয়া ও চীন থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমেরিকার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা প্রথম ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজেও যাতে তাদের একই টিকা দেওয়া যায় সেই ব্যাপারে সরকার প্রস্তুত আছে। যারা ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তাদের মনের কথা হচ্ছে বাংলাদেশ যেন ভ্যাকসিন না পায়। তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী বক্তব্য এবং কাজে সিদ্ধহস্ত, যা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।’
করোনার এ সংকটকালে বিশ্বের সমৃদ্ধ দেশগুলোও যখন সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে তখন ভ্যাকসিন, আইসিইউ, অক্সিজেন ইত্যাদি নিয়ে সংকট তৈরি না করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অধিকতর মনোযোগী হওয়া উচিত বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের।
ভ্যাকসিন নিলে অ্যান্টিবডি হয়, তাই মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে না, এসব কথা যারা ভাবেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ মনোযোগী হই, ঘরে ঘরে সমালোচনার পরিবর্তে সচেতনতা দুর্গ গড়ে তুলি।
শেখ হাসিনা সরকারের শেকড় এ দেশের মাটির অনেক গভীরে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশে সরকারের জনভিত্তি ঠিকই আছে, তবে গত এক যুগ ধরে বিএনপির নানান আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে জনগণ প্রমাণ করে দিয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষে জনবিচ্ছিন্ন। বিএনপির রাজনীতির শেকড় বাংলাদেশের মাটির গভীরে নয়, অন্য কোথাও।’
কোনো আলেম-ওলামাদের তো নয়, এমনকি বিএনপির কোনো নেতাদেরও সরকার গ্রেপ্তার করেনি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা আগুন, সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও দেখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে। এখানে কল্পকাহিনী তৈরির কোনো সুযোগ নেই।’
ওবায়দুল কাদের মনে করেন, ‘ঢাকা, হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে যেভাবে নারকীয় তা-ব চালানো হয়েছে তা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে সন্ত্রাস আড়াল করে সন্ত্রাসীদের বাঁচাতে বিএনপিই মনগড়া কল্পকাহিনী তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে।’
১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, তথাকথিত ৭ নভেম্বর এবং ২১ আগস্ট ঘটিয়ে চক্রান্তের পথে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই, তাই আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করারও আহ্বান জানান। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সড়কগুলোতেও গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।