দোকান খোলা, ক্রেতা নেই

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে মার্কেট, বিপণিবিতান, শপিং মল খুললেও এখনো বাড়েনি বেচাকেনা। এতে করে দোকান খুলে বেচাকেনা করতে না পারায় শঙ্কায় পড়েছে ব্যবসায়ীরা। একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই ক’দিন দোকান খুলে আমাদের কোনো লাভ হলো না। যে পর্যন্ত লকডাউন ও গণপরিবহন চালু না হবে সে পর্যন্ত বেচাকেনা বাড়বে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো বেচাকেনা বাড়েনি মার্কেটগুলোতে। সারাদিন বসে থেকে ব্যবসায়ীরা টুকটাক বেচাকেনা করেছেন।’ তবে দোকান খোলা রাখার সময় আরও বাড়লে ভালো হবে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, নিউমার্কেট, বেইলি রোডের, মৌচাক, ফরচুন শপিং মল, টুইন টাওয়ার, গুলিস্তান, সদরঘাট, ইসলামপুরসহ বেশ কয়েকটি মার্কেটের সপ্তাহের শেষের দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় তেমনটা বাড়েনি বেচাকেনা। যদিও পাইকারি মার্কেটে কিছুটা বেচাকেনা হলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যার পর বেচাকেনা করতে পারছে না। যার ফলে  অনেক ব্যবসায়ীকে বিকেলের পর অলস সময় পার করতে দেখা যায়।

মৌচাক মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, লকডাউনের কারণে এখন ক্রেতা কম। যাদের বাসা কাছাকাছি, তারা এখন মার্কেটে আসছেন। কিন্তু গত বছরও বিক্রি করতে পারিনি। এবারও যদি ভালোভাবে বেচাকেনা না করতে পারি, তাহলে সামনে যে কী হবে কিছুই বলা যাচ্ছে না বলে জানান এই ব্যবসায়ী। 

ফরচুন শপিং মলের ব্যবসায়ী মো. হাছান বলেন, গাড়ি না চলার কারণে মানুষ মার্কেটে আসছে না। কবে যে সব কিছু চালু হবে আর কবেই বা বেচাকেনা বাড়বে এই নিয়ে খুব হতাশায় আছি। সরকারের উচিত আমাদের দিক একটু বিবেচনা করা।

পুরান ঢাকার পাইকারি মার্কেটগুলোতে আগের থেকে কিছুটা বেচাকেনা বেড়েছে বলে জানান ইসলামপুরের ব্যবসায়ী মো. শাওন। তিনি বলেন, ‘এই কয়দিন যা বেচাকেনা হয়েছে তার থেকে কিছুটা বেশি বেচাকেনা হয়েছে এখানকার পাইকারি মার্কেটগুলোতে। অনেকে বিভিন্ন জেলা শহরে বাস না পেয়ে প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস দিয়ে ভাড়া করে এখানে আসে মাল কিনতে।     

সদরঘাটে পাইকারি পাঞ্জাবি মার্কেটের ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন বলেন, এই সদরঘাটের বেচাকেনা আরও কয়দিন পর বাড়বে। লঞ্চ চলাচলের আসায় আছি এখানকার ব্যবসায়ীরা। কারণ নৌপথের ক্রেতারা লকডাউনের জন্য আটকে আছে। তবে এই কয়দিনের তুলনায় আজ (গতকাল) ভালোই বেচাকেনা হয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মো. সেলিম ইসলামপুরে পাইকারি থ্রি পিস নিতে এসেছেন। তিনি বলেন, লকডাউনের জন্য দোকানে এতদিন মাল নিতে ঢাকায় আসতে পারিনি। কিন্তু সামনে ঈদ। এখন যদি মাল নিয়ে ব্যবসা করতে না পারি, তাহলে সারাবছর দোকান চালাব কীভাবে।

রাজশাহী থেকে আসা মো. সাগর নামে আরেক ক্রেতা জানায়, অনেক কষ্ট করে ঢাকায় এলাম। একটি মাইক্রো ভাড়া করে এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এলাম। কিন্তু মালের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। তারপরও কী আর করার, দাম দিয়েই কিনতে হবে। তবে লকডাউন যদি আরও বাড়ানো হয় তাহলে বড় বিপদে পড়ে যাব।  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউনের আদলে দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধ ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়।

আগের বিধিনিষেধ বহালের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ৫ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, দোকানপাট ও শপিং মল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে খোলা রাখা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বাজার/সংস্থার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত রবিবার সারা দেশে বিপণিবিতান, শপিং মল খুলে দেওয়া হয়। দোকান খুলে দেওয়া হলেও ক্রেতাদের মুভমেন্ট পাস নিয়ে মার্কেটে আসার নির্দেশনা দেয় পুলিশ। বাস্তবে সে রকম তৎপরতা দেখা যায়নি।

এর আগে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুদিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সব ধরনের অফিস ও পরিবহন বন্ধের পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।