এক মাসের ব্যবধানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমল ৬৯ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারে মূসকসহ ৯৭৫ টাকা থেকে কমিয়ে ৯০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। এই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১২৬২ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল। তবে বিইআরসি সে দাবি নাকচ করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে গতকাল নতুন দাম নির্ধারণ করে।
উৎপাদন পর্যায়ে ব্যয় পরিবর্তন না হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির এলপিজির দাম পরিবর্তন করা হয়নি। সরকারি সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম আগের ৫৯১ টাকাই থাকছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির নতুন দাম প্রতি লিটার ৪৪ টাকা ৭০ পয়সা। এর আগে এটি ছিল ৪৭ টাকা ৯২ পয়সা।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে এ সংস্থা। ওই সময় বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল বলেন, সৌদি সিপির ভিত্তিতেই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তাই এর বাইরে অন্য কিছু বিবেচনা করা হয়নি। প্রপেন ও বিউটেনের প্রতি টন সৌদি সিপি গড়ে ৫৪০ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার ধরে হিসাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে সম্পর্কিত মূসক ও ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধরে আনুপাতিক হারে পরিবর্তন হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, লোয়াবের প্রত্যাশিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে। এটি ইতিমধ্যেই তাদের বলা হয়েছে। আগামী ৬ মে তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে। দাম কার্যকর করা নিয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, বাস্তবায়ন হয়নি এটা যেমন বলা যাবে না, ঠিক তেমনি শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে, তাও বলা যাবে না। আদেশ বাস্তবায়নে কমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।
দাম ঘোষণার আদেশে বলা হয়, দাম সমন্বয়ে গঠিত বিইআরসির কমিটি ২৫ এপ্রিল কমিশনকে প্রস্তাব দেয়। এরপর ২৮ এপ্রিল অনলাইনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন দাম চূড়ান্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক, মকবুল ই ইলাহি চৌধুরী, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান, কমিশনের সচিব রুবিনা ফেরদৌসী।
গত ডিসেম্বরে বিইআরসিতে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করে এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো। তাদের প্রস্তাব মূল্যায়ন করে বিইআরসি গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। এরপর গত ১৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।