ডিএসইতে তিন মাসে সর্বোচ্চ লেনদেন

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পর থেকে ব্যাংকের সঙ্গে সংগতি রেখে সীমিত আকারে চলছে পুঁজিবাজারের লেনদেন। নিয়মিত সাড়ে চার ঘণ্টার লেনদেনের স্থলে এখন শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে আড়াই ঘণ্টা করে। কিন্তু স্বাভাবিক লেনদেন সময়ের তুলনায় এখন লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কেনাবেচা প্রায় তিন গুণে উন্নীত হয়েছে।

‘লকডাউনে’ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার শেয়ার ও ফান্ড ইউনিট, যা গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় ২৩৪ কোটি টাকা বেশি। গত তিন মাসের ব্যবধানে এটিই ডিএসইর সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি ডিএসইতে ১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা কেনাবেচা হয়েছিল।

তবে বরাবরের মতো অল্প কিছু কোম্পানি ঘিরে লেনদেন বাড়ছে। শীর্ষ ২০ কোম্পানির লেনদেন ছিল ৭৭৩ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের প্রায় ৫৫ ভাগ। বিপরীতে তলানিতে থাকা ২০০ কোম্পানির মাত্র ৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের সাড়ে ৩ শতাংশ।

একক কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকো লিমিটেডেরই ২৭৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এ লেনদেন গতকালের ডিএসইর লেনদেনের প্রায় ২০ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারটি কেনায় আগ্রহ ছিল অনেক বিনিয়োগকারীর। আগের দিনের তুলনায় ২ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে শেয়ারটি সর্বশেষ কেনাবেচা হয় ৮৯ টাকা ৬০ পয়সা দরে।

দিনের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শুরুতে বাড়লেও লেনদেনের সঙ্গে বেক্সিমকোর শেয়ারদর বৃদ্ধি পেতে থাকলে বীমার শেয়ার পিছটান দেয়। শুরুতে বাড়লেও লেনদেনের শেষ সময়ে অনেক বীমা কোম্পানি দর হারায়। শেষ পর্যন্ত এ খাতের ২৩ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৩টি দর হারিয়েছে। যদিও খাতওয়ারি লেনদেনে বীমার প্রাধান্য গতকালও বজায় ছিল। এদিন খাতটির ৪৯ কোম্পানির মোট ৫৪৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩৯ শতাংশ। বেক্সিমকোর লেনদেনসহ ৩২৬ কোটি টাকা নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল বিবিধ খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশ এসেছে খাতটি থেকে।

এদিকে হঠাৎ করে বস্ত্র খাতের শেয়ারদরে গতকাল বেশ ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। খাতটির ৫৬ কোম্পানির মধ্যে ৪৮টিরই দর বেড়েছে, কমেছে মাত্র ৪টির। দর বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের দিনের তুলনায় ৫৬ কোটি টাকা বেড়ে এ খাতের লেনদেন প্রায় ৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। গড়ে শেয়ারদর বেড়েছে পৌনে ৪ শতাংশ হারে। এছাড়া সিমেন্ট খাতের সাত কোম্পানির মধ্যে পাঁচটির দর বৃদ্ধি পাওয়ায় খাতটির শেয়ার দর গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গতকাল ৪১ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল ২৬টি, যার ২০টিই বস্ত্র খাতের। এগুলো হলোÑ আলিফ, আর্গন ডেনিম, ডেল্টা স্পিনার্স, ড্রাগন সোয়েটার, ইস্টার্ন ল্যুব, ফার কেমিক্যাল, হেইডেলবার্গ, খুলনা পাওয়ার, কাট্টলী, ম্যাকসন্স, মালেক স্পিনিং, মতিন স্পিনিং, মেট্রো স্পিনিং, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, নূরানী ডাইং, প্যাসিফিক ডেনিম, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, রিজেন্টটেক্স, রিংশাইন, সাফকো, সায়হাম কটন, শাশা ডেনিম, শেফার্ড এবং তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স।