করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশে সরকারি বিধিনিষেধ থাকার পরও গত এক সপ্তাহে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন ১ হাজার ২৯৬ জন। এর মধ্যে ১৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই ভারতে বাংলাদেশি উপহাইকমিশন থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে দেশে ফিরেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে একই সময়ে বাংলাদেশে আটকে পড়া ১২০ জন ভারতে ফিরে গেছেন। গতকাল সোমবার বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারতের করোনার নতুন ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ রোধে গত ২৬ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সরকারি এই বিধিনিষেধের মুখে ভারতে আটকা পড়েন কয়েক হাজার বাংলাদেশি। পরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আটকে পড়া বাংলাদেশিরা কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনথেকে এনওসি নিয়ে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরটিপিসিআর ল্যাবের করোনা টেস্টের সনদ নিয়ে দেশে ফেরেন।
আহসান হাবিব জানান, গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী দেশে ফিরেছেন ৮৮ জন, আর ভারতীয় ফিরে গেছেন ৪ জন। ভারত থেকে আসা যাত্রীদের বেনাপোলের বিভিন্ন হোটেল ও ঝিকরগাছা গাজিরদরগা এতিমখানায় এবং যশোরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। আর যেসব যাত্রী করোনায় আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে দেশে ফিরছেন, তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেসব যাত্রী দেশে ফিরছেন, তাদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। ভারতফেরত রোগীদের বিশেষ ব্যবস্থায় হোটেলে রাখা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য জরুরি টিম কাজ করছে।’