পরিবহন-নৌশ্রমিকদের নগদ অর্থ সহায়তা দেবে সরকার

করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দেওয়ার অংশ হিসেবে সরকার দুস্থ ও অসহায় মানুষদের আবারও নগদ অর্থ সহায়তা দিতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদেরও নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত বছর যারা এ সহায়তা পেয়েছিলেন, তারাই আবার একই পরিমাণ সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদেরও নগদ সহায়তা দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকদের তালিকা চূড়ান্ত করতে মাঠপর্যায়ে নাম সংগ্রহের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই তাদের অনুকূলে অর্থ ছাড় করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

করোনা মহামারীর কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। যাদের বেতনভাতা হতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় থেকে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের বেতনভাতায় ভাটা পড়ে। অনেক জায়গায় বেতন প্রায় বন্ধ। এতে মানবেতন জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় গত বছর তাদের পাশে দাঁড়ায় সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন নন-এমপিও ৮০ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষককে ৫ হাজার এবং ২৫ হাজার ৩৮ জন কর্মচারীকে আড়াই হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বছর এ খাতে সরকার ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার বরাদ্দ দেয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ডেটাবেজ ধরে এবারও শিক্ষক-কর্মচারীদের সমপরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। এর অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া সারা দেশের কারিগরি, মাদ্রাসা ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মরত নন-এমপিও ৫১ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষককে আলাদা সহায়তার কথা ভাবা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটিও অনুমোদন পেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি দেশ রূপান্তরকে গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘গতবার নন-এমপিওভুক্ত সব শিক্ষককেই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কাজেই এ তালিকা নতুন করে করার কিছু নেই। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের অনুমোদনের পর গতবারের সমান অর্থ মোবাইলের মাধ্যমে দেওয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ টাকা ঈদের আগে পাবে না পরে পাবে সেটি নির্ভর করছে ফাইল অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের ওপর। তবে টাকা পাচ্ছেন এরকমই আমি জানি।’

এদিকে করোনা বিস্তার ঠেকাতে জারিকৃত ‘লকডাউনে’ বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে রয়েছেন এ খাতের শ্রমিকরা। গত বছর লকডাউনে এদের আলাদাভাবে সহায়তা দেওয়া না হলেও এবার দেওয়ার চিন্তা চলছে। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কর্মসূচিতে শ্রমিকরাও ছিল। কিন্তু এতে অনেক শ্রমিক বাদ পড়েছেন। যাদের নাম সরকারের কোনো সহায়তা কর্মসূচিতে নেই, তাদের যুক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।

টানা ‘লকডাউনের’ কারণে ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়েছেন সড়ক ও নৌপরিবহনের শ্রমিকরা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দরিদ্র ও শ্রমিক পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এবার সড়ক ও নৌপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে সরকার।

অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, বাস ও নৌপরিবহন শ্রমিকদের এককালীন নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। কতসংখ্যক শ্রমিকের এ সহায়তা প্রয়োজন তা মাঠপর্যায় থেকে তালিকা করে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে ভার্চুয়ালি ইউএনওদের সঙ্গে বৈঠক করে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। পরবর্তীকালে তারা যাচাই-বাছাই করে সরাসরি অর্থ বিভাগের সার্ভারে শ্রমিকদের তালিকা যুক্ত করতে পারবেন। এরপর সেই তালিকায় থাকা শ্রমিকদের কেউ আগের অর্থ সহায়তার কোনো তালিকায় ছিল কি না সেটি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন দরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অর্থ বিভাগের অধীন ‘মুজিব শতবর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ‘বিশেষ অনুদান’ খাতে ৭৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে জনপ্রতি ২ হাজার ৫১৫ টাকা হারে দ্বিতীয় ধাপে ছয় লাখ পরিবারকে ১৫০ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ের জন্য গত বুধবার সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হয়েছে।