মেহেরপুরে সরকারি গুদামে ঢুকেছে ২৩৩ টন পচা চাল

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্র্তৃপক্ষ গত বছর ৩৬ টাকা কেজি দরে প্রায় ২ হাজার মেট্রিকটন চাল কিনে গুদামজাত করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা বেশি দাম দেখিয়ে নিম্নমানের চাল কিনে গুদামজাত করার মাধ্যমে সরকারি অর্থ তছরুপ করেছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার গুদাম পরিদর্শন করে গাংনী উপজেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি। কমিটির সদস্যরা ১ নম্বর গুদামের ৯ নম্বর লটে ৭৮ দশমিক ৭৮ ও গাংনী শিশিরপাড়া মোড়ে অবস্থিত ৩ নম্বর গুদামের ৭ নম্বর লটে ১৫৪ দশমিক ৮৬ মেট্রিকটন মিলে ২৩৩ মেট্রিকটনের বেশি নি¤œমানের চাল পায়। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এসব চাল পচা, পোকা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় খাবার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এবং মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের এমপি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, ‘কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে আমি নিজে গিয়ে গুদামে নিম্নমানের চাল পেয়েছি। এটি অমার্জনীয় অপরাধ। চাল সরবরাহের সময় বস্তাপ্রতি দুই কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও পেয়েছি। খাদ্য কর্মকর্তা নষ্ট চাল গুদামে সংরক্ষণ ও বিতরণ করে সরকারের ভাবমর্যাদা নষ্ট করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি অর্থে কীভাবে ভালোর পরিবর্তে পচা চাল গুদামজাত হলো, তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও ও উপজেলা খাদ্য কর্মকতাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, চালের মজুদ বৃদ্ধির জন্য গত বছর খোলাবাজার থেকে চাল সংগ্রহ করে সরকার। বিভিন্ন চালকল মালিক, ইউপি সচিব ও ব্যবসায়ীদের থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে খাদ্য বিভাগ চাল সংগ্রহ করে। গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এসব চাল সংগ্রহ করা হয়। অভিযানের পরপরই বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের চাল গুদামজাত করার অভিযোগ করেন। শুরুতে উপজেলা খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। তবে অভিযোগের পাল্লা ভারী হলে নড়েচড়ে বসে।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা হাসান সাব্বির বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে আগের কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান আমাকে বলেছেন- করোনাকালে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে গিয়ে জরুরিভাবে কিছু নিম্নমাানের চাল কেনা হয়েছে। সে সময়ে খোলাবাজারে চালের দাম ছিল ৪২-৪৪ টাকা। এজন্য সরকারি নির্দেশে ৩৬ টাকা দরে নিম্নমানের চাল কেনা হয়। তিনি জানানোর পরপরই আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানাই। বর্তমানে সেই চাল নষ্ট হয়ে গেছে।’

গুদাম পরিদর্শন শেষে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমি ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি খাদ্য বিভাগকে জানাই। কিন্তু করোনার কারণে এতদিন সুরাহা হয়নি। এখন কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’