চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা না হলে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে জাহাজ আনতে আগ্রহী নয় শিপিং কোম্পানিগুলো। ফলে সক্ষমতা সত্ত্বেও বড় জাহাজ ভিড়ছে না বন্দরে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএসএ) পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিষয়টি জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিএসএএ সূত্র জানায়, গত ১৫ এপ্রিল বন্দর কর্তৃপক্ষ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অপারেশনাল কার্যক্রমকে অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে ছোট জাহাজের পরিবর্তে ১৮৬ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯মিটার ড্রাফটের জাহাজ পরিচালনা করতে বলেছে। তবে এক্ষেত্রে জেটিতে বার্থিংয়ের সময় দুটি টাগবোট ব্যবহার এবং ০.৫ মিটার ড্রাফট কমানোর শর্ত আরোপ করেছে। এছাড়া বন্দরের পাইলট ও দুটি টাগবোট ব্যবহারের পরও এসব জাহাজের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতির সব দায় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা এজেন্ট বহন করবে বলে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
একাধিক শিপিং এজেন্ট জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ আরোপিত শর্ত পূরণ করে জাহাজ আনতে গেলে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পূর্ণ ড্রাফট নিয়ে যদি জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়তে না পারে তাহলে কম পণ্য নিয়ে আসতে হবে। আর কম পণ্য নিয়ে বড় জাহাজ এনে কোনো লাভ হবে না।
এ বিষয়ে গত ৫ মে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিএসএএ চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. আরিফ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৮৬ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বন্দরে বড় জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে এসব বিধিনিষেধ প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। তাই বিধিনিষেধগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। বিশেষ করে জাহাজ বার্থিংকালে দুটি টাগবোটের ব্যবহার দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট কমিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতা তুলে নিতে হবে। নয়তো বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে জাহাজ পরিচালনা প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী নয়।
বাংলাদেশ কন্টেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও বড় জাহাজ বার্থিংয়ে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে গত ২ মে বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত পরিচালক খায়রুল আলম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্দরের সার্কুলারে ১৮৬ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো ও জেটি ছেড়ে যাওয়ার সময় দুটি টাগবোট ব্যবহার এবং বন্দরের পাইলট নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরপরও যে কোনো দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ্যালের পক্ষে শিপিং এজেন্টকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা প্রদানের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। বন্দরের পাইলট ও টাগবোট দিয়ে জাহাজ ভেড়ানোর পর যদি নিজেদের দুর্ঘটনার দায় নিতে হয় তাহলে এদের পেছনে এত অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন কী?
তিনি বলেন, বন্দর একদিকে গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য বড় জাহাজ আনতে বলবে আবার এসব জাহাজকে ড্রাফট কমিয়ে ফেলার বিধিনিষেধ আরোপ করবেÑ এটা মোটেও যৌক্তিক নয়। কারণ কম পণ্য তো আরও কম দৈর্ঘ্যরে জাহাজে আনা যায়। তাহলে কম পণ্য নিয়ে কেন বড় জাহাজ আসবে। তার মতে, বন্দরে বড় জাহাজ ভেড়াতে চাইলে বন্দরকে এসব শর্ত শিথিল করতে হবে। বিএসএএ’র পক্ষ থেকে সেই বিষয়টিই বন্দরকে জানানো হয়েছে।