৪০ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কমতির মধ্যে এবার মৃত্যু চল্লিশের নিচে নামল। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৭ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা গত ৪০ দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ এরচেয়ে কম ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দৈনিক মৃত্যু প্রথমবার চল্লিশের ওপরে ওঠে গত ২৯ মার্চ। ওইদিন ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। তার পর থেকে মৃত্যু ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। দীর্ঘ ৩৯ দিন পর গতকাল সেই মৃত্যু ৪০-এর নিচে নামল।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গত ১৯ এপ্রিল। ওইদিন ২৪ ঘণ্টায় ১১২ জনের মৃত্যু হয়, যা শুধু দ্বিতীয় ঢেউয়েই নয়, প্রথম ঢেউসহ এ যাবৎ দেশে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ৬৪ জন। চলমান দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু কমতে শুরু করে এপ্রিলের শেষ দিক থেকে। কমতে কমতে দীর্ঘ ২৪ দিন পর গত ৩০ এপ্রিল দৈনিক মৃত্যু ৬০-এর নিচে নামে। তার ৬ দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার মৃত্যু ৫০-এর নিচে নামে এবং গতকাল তা ৪০-এর নিচে নামল।

এদিকে বেশ কয়েক দিন ধরে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হার ধারাবাহিকভাবে কমলেও গতকাল তা হঠাৎ করে বেড়েছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় দেড় শতাংশ বেশি এবং গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের দিন বৃহস্পতিবার শনাক্ত হার ছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি নাগাদ প্রথম ঢেউয়ের সংক্রমণ হার কমতে কমতে সর্বনি¤œ দুই শতাংশে নামার পর মার্চের শুরু থেকেই আবার তা বাড়তে শুরু করে। বাড়তে বাড়তে এপ্রিল নাগাদ এই হার সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশের ওপরে ওঠে। গত ৯ এপ্রিল ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়, যা দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত হার। তার পর থেকে ধীরে ধীরে শনাক্ত হার কমতে থাকে। গত ৩ মে শনাক্ত হার কমে ৯ শতাংশের নিচে নামে। টানা তিন দিন শনাক্ত হার নয়ের নিচে থাকার পর গতকাল তা আবার বেড়ে ৯ শতাংশের ওপরে উঠে ১০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় ১৭ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৮২ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪২৫তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে ৪৪৩টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৫টি জিন-এক্সপার্ট, নতুন ১৫টিসহ ২৮১টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৭টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৭ হাজার ৩২৯ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ১৩ জনের, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৮৭টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১১ হাজার ৮৩৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৪ ও সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৩ ও নারী ১৪ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৫৮৯ পুরুষ ও ৩ হাজার ২৪৪ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৫৯ ও নারী ২৭ দশমিক ৪১ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ১৯ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১১, রাজশাহী ও সিলেটে ২ জন করে এবং খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২০, ৫১-৬০ বছরের ১১, ৪১-৫০ বছরের ৫ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিলেন ১ জন। এদিন ২৮ জন সরকারি হাসপাতালে, ৮ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১ জন বাসায় মারা গেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৮৩ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ৪৬৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৮ হাজার ৯০৩ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৮ হাজার ৩৬৭ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১২ হাজার ৪৮টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ২ হাজার ৬৫০টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ৭২টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিলেন ৪৪৩টিতে।