করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেল এপ্রিল মাসে সারা দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী মারা গেছেন। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬০০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৪৪৩ জন মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৬১ জন। আর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৫৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৭ জন।
সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার তথ্য সংগ্রহ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন উইং। আর প্রাথমিক স্তরের তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সেখান থেকেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ৫ জন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে দুজনের বেশি মৃত্যু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৪ জন, বাকিরা প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষক-কর্মকর্তারা বলছেন, সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও এত সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী আক্রান্ত হওয়ার চিত্র উদ্বেগজনক। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ৯টি আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৪৯৮ জন। মারা গেছেন ১৮ জন। কুমিল্লায় আক্রান্ত ১০৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের, বরিশালে আক্রান্ত ২০১, মৃত্যু ৩, ময়মনসিংহে আক্রান্ত ৭৫, মৃত্যু ৩, চট্টগ্রামে আক্রান্ত ৮৫, মৃত্যু ৫, রাজশাহীতে আক্রান্ত ৬৬, মৃত্যু ৭, সিলেটে আক্রান্ত ১০৪, মৃত্যু ১, রংপুরে আক্রান্ত ১৩৭, মৃত্যু ৭ এবং খুলনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৮ জন এবং মারা গেছেন ১২ জন।
করোনায় মৃত্যু হওয়াদের মধ্যে শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ কর্মকর্তাও রয়েছেন। ওই কর্মকর্তারা হলেন মাদারীপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর জীবন কৃষ্ণ সাহা, নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী আশরাফুল আলম ও রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল খায়ের সামাদী। বাকি দুজন হলেন কুমিল্লার লাকসামে নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ আলম এবং ময়মনসিংহের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক অজিত কুমার সরকার।
এদিকে এপ্রিলে সারা দেশের প্রাথমিক স্কুলে কর্মরত মোট ১ হাজার ১৫৭ শিক্ষক-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৮৫ জন সুস্থ হলেও ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষক ২৩, কর্মকর্তা ৩, কর্মচারী একজন রয়েছেন। আর আক্রান্তের মধ্যে শিক্ষক ৯১৫, কর্মকর্তা ১৪৯, কর্মচারী ৬৮ ও ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭, খুলনায় ৮, চট্টগ্রামে ৭, রাজশাহীতে ১, বরিশালে ১, সিলেটে ১ ও রংপুরে ২ জন রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগে প্রাথমিকের কোনো শিক্ষক-কর্মচারী করোনায় মারা যাননি।