মোবাইলে গেমস খেলতে না দেওয়ায় ৬ বছরের শিশুকে হত্যা করে কিশোর

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার সাবগাড়ী ভিটাপাড়া গ্রামে ছয় বছরের শিশু মহিবুল্লাহ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকারী একই গ্রামের ১৩ বছরের কিশোর। মোবাইল ফোনে গেমস খেলার নেশায় ফোন চেয়ে ব্যর্থ হয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় ওই কিশোর নয়ন।

শনিবার দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সিংড়া উপজেলার গোটিয়া মহিষমারী গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ইসাহক আলীর স্ত্রী গর্ভবতি হওয়ায় সন্তান প্রসবের জন্য ১৫ দিন আগে গুরুদাসপুরের সাবগাড়ী গ্রামে বাবা দিরাজ মোল্লার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এখানে তার শিশুপুত্র মহিবুল্লাহ মায়ের মোবাইলফোনে সবসময়ই কার্টুন দেখত। হত্যায় অভিযুক্ত ওই কিশোর মোবাইল গেম খেলতে মহিবুল্লাহকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। লাশ লুকাতে বস্তাবন্দি করে ভুট্টা খেতে রাখে।

পুলিশ জানায়, ওই কিশোরের বয়স কম হলেও বার বার কৌশলে পুলিশকে ভুল তথ্য দেয়। একপর্যায়ে তার নানির কাছ থেকে মহিবুল্লাহর মোবাইল ফোন ও হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর জানায় সে মাথা ন্যাড়া করায় তাকে মহিবুল্লাহ ও এক আত্মীয় বিভিন্নভাবে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করায় সে ক্ষিপ্ত ছিল। এরপর মোবাইলে গেমস খেলার নেশায় মহিবুল্লার কাছে ফোন চেয়ে ব্যর্থ হয় সে। এরপর সে শিশু মহিবুল্লাহকে একাই হত্যা করে।

পরিবার জানায়, পেটের অনাগত সন্তানকে প্রসব করাতে মায়ের বাড়ি এসে নিজের ছয় বছর বয়সী একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শাপলা বেগম এখন পাগলের মতো বিলাপ করছেন। মহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় তার পিতা ইসাহক আলী বাদী হয়ে থানায় ওই কিশোরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে যশোরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো প্রস্তুতি চলছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বড়ইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিল আখতার, গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।