মমতার মন্ত্রীদের শপথ কাল বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আজ রবিবার নেওয়ার কথা থাকলেও তা এক দিন পিছিয়েছে। আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টায় কলকাতার রাজভবনে হবে শপথ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই তথ্য।

এদিকে তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও তোপ দাগলেন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার প্রথম বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দিতে এসে মমতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কোথাও কোথাও রিগিং হয়েছে। আমরা সব জানি। সব বুঝতে পেরেছি। আমরা আবার বলছি, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার হওয়ার প্রয়োজন আছে। কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসার একটা চিরকুট লিখে লোককে বদলি করে দিচ্ছেন!’

তিনি আরও বলেছেন, ‘যে বিরোধীরা জিতে এসেছেন, তারা বেশির ভাগই জিতে এসেছেন (নির্বাচন) কমিশনের দয়ায়। তারা স্পিকার নির্বাচন বয়কট করেছেন! জনগণও বয়কট করেছে! ইলেকশন কমিশন না থাকলে ওরা ৩০টা আসনও পেত না।’ গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় বারের জন্য বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হন। তার পরেই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে বক্তৃতা করেন তিনি। এ সময় বিধানসভায় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব না থাকা এবং বিজেপির অধিবেশন বয়কটের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিধানসভায় কংগ্রেস ও সিপিএমের সদস্য নেই। নির্বাচন কমিশনের দয়ায় এসেছে ওরা। ঠিক আছে জনগণের জনাদেশ বলে মেনে নিচ্ছি। আপনারা অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন। আমার শপথের অনুষ্ঠানও বয়কট করেছিলেন। আসলে ওদের সম্পূর্ণ বয়কট করেছে জনগণ।’

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমাদের হারাতে অনেক টাকা খরচ করেছে। সেই টাকা ভ্যাকসিনে খরচ করলে ভালো হতো। সবাইকে টিকা দেওয়া যেত। সার্বিক টিকাকরণ হতো।’

এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে শুক্রবার এক বৈঠক করেন। ওই বৈঠক শেষে তিনি বলেন, এই রাজ্যে তৃণমূলের সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিজেপি বিধানসভার অধিবেশন বয়কট করবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এবার বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন, তা এখনো ঠিক করেনি বিজেপি। নাম উঠছে দুজনের মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারী। তবে সূত্র বলেছে, দিলীপ ঘোষ নাকি চাইছেন একজন সংঘঘেঁষা বিধায়ককে এই পদে বসাতে।

মন্ত্রীদের বৈঠকের বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে ছোট আকারে। অনুষ্ঠানে সর্বাধিক ৫০ জন অতিথি থাকবেন। এদিন অবশ্য পূর্ণ মন্ত্রীদেরই শপথ গ্রহণ করানো হবে। পরে অন্য সময় প্রতিমন্ত্রীদের। শপথ করাবেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এর আগে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনে যথাক্রমে ১৪৩ ও ১৪৮ জন নতুন বিধায়কের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।