মাদারীপুরের শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যুর মামলায় ওই নৌযানের অন্যতম মালিক চান মিয়া ওরফে চান্দু মোল্লাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল রবিবার ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের তেঘড়িয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় সে আত্মগোপন করে ছিল। গোপনে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউনে বাড়তি মুনাফার আশায় চান মিয়া স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার করছিলেন। তিনি ৫ বছর ধরে অনুমোদনবিহীন তিনটি স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার করে আসছিলেন।’
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের জারি করা ‘কঠোর বিধিনিষেধের’ মধ্যে নৌচলাচলও বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু তা না মেনে গত ৩ মে একটি স্পিডবোট শিমুলিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে কাঁঠালবাড়ী (পুরাতন ফেরিঘাট) ঘাটের কাছে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।
শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করে রাখা বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। পরে ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় নৌপুলিশের এসআই লোকমান হোসেন বাদী হয়ে শিবচর থানায় স্পিডবোটের চালক শাহ আলম, দুই মালিক চান্দু মিয়া ও রেজাউল এবং ঘাটের ইজারাদার শাহ আলম খানসহ অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরে ডোপ টেস্ট করে জানা যায়, স্পিডবোট চালক মো. শাহ আলম (৩৬) ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।