করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। প্রতিদিন দেশটিতে করোনায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু এবং শনাক্ত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের। বৈশ্বিক এ মহামারীতে ভারতে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতিতে ভুক্তভোগীদের জন্য শোক ও প্রার্থনা জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সহমর্মিতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে গতকাল সোমবার জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে বলা হয়, বাংলাদেশের সর্বাত্মক সহযোগিতায় একসঙ্গে করোনা মোকাবিলার বিষয়েও অঙ্গীকার করেছেন শেখ হাসিনা।
গত এক সপ্তাহে বিশ্বে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শনাক্ত হয়েছে ভারতে। একই সময়ে বিশ্বে করোনায় যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার এক-তৃতীয়াংশই হয়েছে প্রতিবেশী দেশটিতে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্যমতে, গত সাত দিনে বিশ্বে শনাক্ত হয়েছে ৫৪ লাখ ৪২ হাজারেরও বেশি করোনা রোগী। একই সময়ে ভারতে শনাক্ত হয়েছে অন্তত ২৭ লাখ ৪২ হাজার জন। সপ্তাহটিতে বিশ্বে করোনায় মারা গেছে অন্তত ৯০ হাজার। আর এ সময়ে ভারতে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষের। বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে করোনা শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে হলেও প্রতিবেশী দেশটিতে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এ হার ২০ শতাংশের ওপরে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রতিদিনই সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পাওয়া এবং অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিবেশী দেশটিতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার দেশটির কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের উপহাইকমিশনার তৌফিক হোসেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির হাতে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রেমডিসিভির তুলে দেন। ওই চালানে ১০ হাজার ভায়াল ওষুধ রয়েছে। ভারতে ১২ থেকে ৫৩ ডলারের প্রতি ফাইল রেমডিসিভির বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে এক হাজার ডলারে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে দেশটিতে রেমডিসিভির ওষুধ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের করোনা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।”