দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা কমে এসেছে। ফলে কভিড হাসপাতালগুলোতে রোগীও কমেছে। গত ১৯ দিনের ব্যবধানে আইসিইউতে রোগী অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আইসিইউতে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি ছিল গত ২১ এপ্রিল। ওইদিন সারা দেশের কভিড হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে ৭৯৩ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিলেন। তার ১৯ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার এসব আইসিইউতে রোগী ভর্তি ছিলেন ৩৮১ জন। অর্থাৎ এ ক’দিনে রোগী কমেছে অর্ধেকের বেশি। শতকরা হিসেবে ১৯ দিনে আইসিইউতে করোনা রোগী কমেছে প্রায় ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে আইসিইউর চেয়ে বেশি রোগী কমেছে সাধারণ শয্যাতে।
অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গতকাল কভিড হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি ছিলেন ২ হাজার ৩০৩ জন। অথচ গত ২১ এপ্রিল সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি ছিলেন ৫ হাজার ৫১৭ জন। শতকরা হিসাবে ১৯ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫৮ শতাংশ রোগী কমেছে সাধারণ শয্যায়।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আইসিইউ শয্যায় রোগী কমেছে মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর হাসপাতালগুলোতে। এই দুই মহানগরীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানের হাসপাতালগুলোতে উল্টো রোগী কয়েকগুণ বেড়েছে। গত ২১ এপ্রিল এসব হাসপাতালে আইসিইউ রোগী ছিলেন মাত্র ১২ জন। আর গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ১১৫ জন। ১৯ দিনে রোগী বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। এতদিনে অবশ্য এসব হাসপাতালে আইসিইউর সংখ্যাও সমানভাবে বেড়েছে। ১৯ দিন আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে কভিড হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা ছিল মাত্র ২০টি। আর গতকাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৭টিতে।
এদিকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। টানা তিন দিন মৃত্যু ৫০-এর নিচে থাকার পর গত রবিবার তা হঠাৎ বেড়ে আবার ৫০ ছাড়ায়। কিন্তু পরদিন গতকাল তা কমে গিয়ে আবার ৪০-এর নিচে নামল। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন ৩৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিন মৃত্যু কমলেও রোগী শনাক্ত বেড়েছে। আগের দিনের প্রায় সমান সংখ্যক পরীক্ষা হলেও গতকাল রোগী শনাক্ত বেড়েছে প্রায় দেড়শ। কারণ এদিন শনাক্তের হার বেড়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন ১৬ হাজার ৮৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৫১৪ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের দিন শনাক্ত হার ছিল ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪২৮তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে ৪৫৪টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৫টি জিন-এক্সপার্ট, ২৯১টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৮টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৬ হাজার ৯৬৩ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮৪৮ জনের, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৩৩টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ২৭ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ হাজার ৯৭২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৪ ও সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৯০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৫ ও নারী ১৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৬৭৮ পুরুষ ও ৩ হাজার ২৯৪ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৪৯ ও নারী ২৭ দশমিক ৫১ ভাগ। এদিন ঢাকা বিভাগে ১৫ ও চট্টগ্রামে ১১ জন মারা গেছেন। বাকিদের মধ্যে রাজশাহীতে ৬, সিলেটে ৩, বরিশালে ২ এবং রংপুরে ১ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২৫, ৫১-৬০ বছরের ৭, ৪১-৫০ বছরের ৫ এবং ২১-৩০ বছরের ছিল ১ জন। এদিন ২৬ জন সরকারি হাসপাতালে, ১০ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ২ জন বাসায় মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৩৮ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ৪৪০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৮ হাজার ৩৩২ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৭ হাজার ৮৫০ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১২ হাজার ৫৯টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ২ হাজার ৩০৩টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ৬৯টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিলেন ৩৮১টিতে।